আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বৃহস্পতিবার জবানবন্দি দিয়েছেন সাক্ষী তাজুল ইসলাম। তিনি জেআইসিতে (জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল) গুম করে রাখার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ষষ্ঠ সাক্ষী হিসেবে এই জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনি নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।
স্বীকারোক্তি আদায়ে নির্যাতন
তাজুল ইসলাম নিজেকে হেফাজতে ইসলামের কর্মী বলে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, তিনি বর্তমানে কৃষিকাজ করেন এবং একসময় মানিকগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় কর্মরত ছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জুলুম-নির্যাতন ও হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে গণহত্যা নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করতেন। এ কারণে তাঁকে ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বর রাতে মাদ্রাসা থেকে গুম করা হয়।
তিনি আরও বলেন, গুম করে রাখার স্থানে তাঁকে কোনো কোনো দিন দুই-তিনবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। প্রথম চার মাসে তাঁকে ২০-২৫ দিন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়। একবার জিজ্ঞাসাবাদে তাঁকে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সব সময় নির্যাতন করা হতো। তাঁকে জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়।
জঙ্গি নাটক মঞ্চস্থ
এক বছরের বেশি গুম করে রাখার পর ২০১৬ সালের ৮ ডিসেম্বর তাজুল ও নাজিম উদ্দিনকে গাড়িতে তোলা হয়। চট্টগ্রামের কর্নেল হাট এলাকায় সানজিদা এন্টারপ্রাইজের সামনে নামিয়ে অস্ত্র উদ্ধারের নাটক সাজানো হয়। পরে একটি নির্মাণাধীন বাড়িতে নিয়ে তাঁদের আটকে রাখা হয়। সেখানে তিন-চার ঘণ্টা জঙ্গি নাটক মঞ্চস্থ করে সাংবাদিকদের সামনে আনা হয়। পরে তাঁদের র্যাব-৭-এ নিয়ে যাওয়া হয় এবং ৮ ডিসেম্বর রাতে আকবর শাহ থানায় সোপর্দ করা হয়।
মামলা ও কারাভোগ
২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর তাঁদের কোর্টে ওঠানো হয় এবং জেলে পাঠানো হয়। জেলে থাকা অবস্থায় দুই দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়—তিন দিন পুলিশি ও তিন দিন র্যাবের হেফাজতে। জঙ্গি নাটকটি মঞ্চস্থ করেন র্যাব-৭-এর কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ। তাঁদের নামে তিনটি মামলা হয়—একটি সন্ত্রাস দমন আইনে, একটি বিস্ফোরক ও অস্ত্র আইনে এবং অন্যটি অস্ত্র আইনে। একটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন, বাকিগুলো চলমান। ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি আট বছর কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হন।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ
তাজুল ইসলাম বলেন, তাঁকে গুম, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও কারাভোগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর সামরিক উপদেষ্টাসহ ডিজিএফআইয়ের তৎকালীন দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করেন তিনি।
আসামিরা
জেআইসিতে গুমের মামলায় ১৩ আসামির মধ্যে ৩ জন গ্রেপ্তার আছেন। তাঁরা হলেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক তিন পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী। আজ তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বাকি ১০ জন পলাতক, যাদের মধ্যে আছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক: লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আকবর হোসেন, মেজর জেনারেল (অব.) সাইফুল আবেদিন, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) সাইফুল আলম, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী ও মেজর জেনারেল (অব.) হামিদুল হক।



