পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার (১৭ জুন) সিআইডির ঢাকা মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার ড. রুহুল আমিন সরকারের নেতৃত্বে রাজারবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন মো. শাফায়াত হোসেন শেখ ও এনামুল হক আকবর।
প্রতারণার কৌশল
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, গ্রেফতাররা বাংলাদেশ পুলিশের চলমান নিয়োগ কার্যক্রমে বিভিন্ন ধাপে বাদ পড়া প্রার্থীদের তথ্য সংগ্রহ করত। পরে তারা ওই প্রার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের প্রভাবশালী ব্যক্তি বা উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে বলে দাবি করত। পাশাপাশি পুনরায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করে পুলিশে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ দাবি করত।
তদন্তে আরও জানা যায়, চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা অর্জনের জন্য চক্রটি বিশেষ কৌশল অবলম্বন করত। তারা অগ্রিম অর্থ গ্রহণের আগে নিজেদের ব্যাংক চেক জামানত হিসেবে প্রদান করত, যাতে ভুক্তভোগীরা সহজে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে না পারেন।
ঘটনার বিবরণ
এরই ধারাবাহিকতায় এক চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা নেওয়ার উদ্দেশ্যে তারা যোগাযোগ করে এবং চাকরি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেয়। প্রার্থীর বিশ্বাস অর্জনের জন্য অভিযুক্ত শাফায়েত হোসেন নিজের স্বাক্ষর করা ব্যাংকের ৫ লাখ টাকার একটি চেক তার হাতে তুলে দেন। একই সঙ্গে চাকরির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কথা বলে তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়।
পূর্ব তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডির মেট্রো-পশ্চিম বিভাগের একটি দল রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল এলাকায় নজরদারি স্থাপন করে। একপর্যায়ে প্রতারক চক্রটি চাকরিপ্রার্থীকে নিয়ে তথাকথিত মেডিকেল পরীক্ষার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে এলে সিআইডি সদস্যরা তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করেন।
এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং চাকরিপ্রার্থীকে দেওয়া ব্যাংকের ৫ লাখ টাকার স্বাক্ষরিত চেক জব্দ করা হয়।
আইনি ব্যবস্থা
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মো. শাফায়েত হোসেন শেখের বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি, প্রতারণা ও হত্যা-সংক্রান্ত মোট তিনটি মামলা রয়েছে। এদিকে, শাফায়েত হোসেনের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট হওয়ার দাবির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং অন্য কোনো ভুক্তভোগী রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।



