মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানকে একটি বড় বার্তা দিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ট্রাম্প তুরস্ককে আবারও এফ-৩৫ স্টিলথ ফাইটার জেট কর্মসূচিতে ফিরিয়ে নেওয়ার অনুমতি দিতে প্রস্তুত। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ন্যাটো সম্মেলনে বৈঠক
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। সম্মেলন চলাকালীন ট্রাম্প ও এরদোয়ানের মধ্যে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকেই এফ-৩৫ ইস্যুতে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কংগ্রেসের বাধা ও আইনি জটিলতা
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, কংগ্রেসের বিধিনিষেধ ও আইনি বাধা কীভাবে অতিক্রম করা হবে, তা নিয়ে কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে এ বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে চিঠি বিনিময় হতে পারে বলে তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ প্রতিবেদন সম্পর্কে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি হোয়াইট হাউস।
ইসরায়েলের অবস্থান
এর আগে সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, তুরস্কের হাতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বা এসব বিমানের ইঞ্জিন যাওয়া উচিত নয় বলে মনে করে ইসরায়েল। সাম্প্রতিক এক ফোনালাপেও তিনি ট্রাম্পকে এমন পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পটভূমি: এস-৪০০ ক্রয় ও নিষেধাজ্ঞা
২০১৯ সালে রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনেছিল তুরস্ক। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আঙ্কারার সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং মার্কিন কংগ্রেসে তুরস্কের প্রতি সমর্থন কমে যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ওয়াশিংটন তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং দেশটির এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি বাতিল করে।
পরবর্তীতে মার্কিন কংগ্রেস একটি আইনও পাস করে, যেখানে বলা হয় যতদিন আঙ্কারার কাছে এস-৪০০ ব্যবস্থা থাকবে, ততদিন তুরস্কের কাছে কোনও এফ-৩৫ বিক্রি করা যাবে না। মার্কিন কংগ্রেসের দাবি, রাশিয়ার এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে।



