গাইবান্ধা সদর উপজেলায় রাহাত মিয়া (১৫) নামের এক কিশোরকে পানিতে চুবিয়ে হত্যার অভিযোগে দুই কিশোরের বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। আজ বুধবার সকালে উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের বিবরণ
নিহত রাহাত মিয়া ওই গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এলাকায় একটি পুকুরে দুই বন্ধুর সঙ্গে গোসলে নামে রাহাত। গোসলের একপর্যায়ে পাওনা টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে রাহাত মিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আশপাশের লোকজন রাহাতকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।
নিহত রাহাত মিয়ার স্বজনদের অভিযোগ, রাহাতকে পানিতে চুবিয়ে মেরে ফেলেছে তার দুই বন্ধু। ঘটনার পর তারা পালিয়ে যায়।
বিক্ষোভ ও ভাঙচুর
এদিকে আজ সকালে রাহাত মিয়ার লাশ বাড়িতে পৌঁছালে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে তারা ওই দুই কিশোরের বাড়িঘর ভাঙচুর করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোখলেছ মিয়া বলেন, ওই দুই বন্ধুর কাছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা পেতেন রাহাত মিয়া। এ টাকা আদায় নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
পুলিশের বক্তব্য
বাড়িঘরে ভাঙচুরের খবরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয় জানিয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় পরিস্থিতি শান্ত করা হয়। এর আগে গতকাল রাতেই রাহাতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এর প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে মরদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। আজ বেলা একটা পর্যন্ত ভাঙচুর বা হত্যার ঘটনায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
অভিযুক্ত দুই কিশোরের অভিভাবকদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের ব্যবহৃত নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।



