পিরোজপুরে একটি প্রাইভেট কোচিং ব্যাচে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নিপীড়নের অভিযোগে পিরোজপুর টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নির্মল চন্দ্র ভদ্রকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।
এর আগে গত ৮ জুন নির্মল চন্দ্র ভদ্রকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বুধবার তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ঘটনাটি যথাযথভাবে মোকাবিলায় অবহেলার অভিযোগে করিমুন্নেসা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, টাইম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২২ মে পিরোজপুর শহরের করিমুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী নির্মলের কাছে প্রাইভেট কোচিংয়ে গেলে তিনি তাকে যৌন নিপীড়ন করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নির্মলের বিচার দাবি করে সোমবার পিরোজপুর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করে করিমুন্নেসা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া জনি জানান, গত ২২ মে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটলেও দুই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অবহেলার কারণে সময়মতো স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি জানতে পারেনি। ঘটনার অনেক পরে ৯ জুন বিষয়টি সবার নজরে আসে। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য বুধবার জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইসরাত জাহানকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। এ কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।



