হাজার হাজার বিচারাধীন মামলার কারণে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে আছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, আইনি জটিলতা নিরসনে সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এর কাঙ্ক্ষিত সমাধান করা সম্ভব হয়নি।
সংসদে আলোচনা
বুধবার সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে শিক্ষক সংকট ও নিয়োগ-সংক্রান্ত মামলার বিষয়টি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন ফারুক। এর জবাবে মাগরিবের নামাজের বিরতির আগে সংসদীয় ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়ে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আইনি জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ
শিক্ষামন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি নিজে আদালতপাড়ায় গিয়ে এই আইনি জটিলতাগুলো নিরসনের উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু মামলাগুলো এখনো আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় না ওঠায় নিষ্পত্তি হতে সময় লাগছে। এই আইনি দীর্ঘসূত্রতার কারণে সারা দেশে তীব্র শিক্ষক সংকট থাকা সত্ত্বেও নতুন করে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না।
বহুমুখী নিয়োগে জটিলতা
শুধু সহকারী শিক্ষক নিয়োগই নয়, শিক্ষাক্ষেত্রের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ আইনি বেড়াজালে আটকে আছে বলে জানান ড. এহসানুল হক মিলন। তিনি উল্লেখ করেন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কলেজের অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়াও মামলাজটে স্থগিত রয়েছে। একই কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি-কাম-নৈশপ্রহরী নিয়োগও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
পদোন্নতি বাধাগ্রস্ত
মামলার কারণে পদোন্নতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা খাতে হাজার হাজার মামলা চলমান থাকায় প্রশাসনিক কাজে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। বর্তমানে দেশে প্রধান শিক্ষকের প্রায় ৩৩ হাজার পদ শূন্য পড়ে আছে। সারা দেশে অসংখ্য শিক্ষক প্রধান শিক্ষক হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। কিন্তু মামলা ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এই যোগ্য শিক্ষকরা পদোন্নতি পাওয়ার আগেই অবসরে চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
বদলি প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণ
এছাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বদলির বিষয়ে মন্ত্রী সংসদকে জানান, বদলি প্রক্রিয়ায় গতি আনতে এরই মধ্যে এই দায়িত্ব উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে। সরকার এসব সংকট সমাধানে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করেন, আদালতে বিচারাধীন এসব মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রমে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি অর্জন করা অত্যন্ত কঠিন।



