মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিশের ওপর আলোচনার সময় একাধিক হাস্যরসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনকে কিছুটা অমনোযোগী দেখে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
‘সো বিজি’ বলে সতর্ক করলেন স্পিকার
স্পিকার ‘মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী’, ‘মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী’—এভাবে দুবার সম্বোধন করেন। কিন্তু স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টি খেয়াল করেননি। তখন স্পিকার বলেন, ‘সো বিজি।’ এরপর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্ক হলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আপনার উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন সদস্য, একটু দয়া করে শুনুন।’ পরে সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম তাঁর নোটিশের বিষয়ে বক্তব্য দেন।
সংসদে ‘খুল্লাম খুল্লা’ ফোন ব্যবহার
একই অধিবেশনে বিল নিয়ে আলোচনার সময় একজন সংসদ সদস্যকে মুঠোফোন ব্যবহার করতে দেখে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘সংসদে কেউ কেউ টেলিফোন ব্যবহার করেন একটা আড়াল রেখে। আপনি তো খুল্লাম খুল্লা ইউজ করছেন।’ সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে স্পিকার বলেন, ‘অনুগ্রহ করে সংসদে ফোন ব্যবহার করবেন না। এটি রীতিবিরুদ্ধ। এটি সবার জন্য প্রযোজ্য। সংসদের মর্যাদা সমুন্নত রাখবেন, এটাই আমি আশা করি।’
মুরগি নিয়ে আছি, পুলিশ নেই
কুষ্টিয়ার নদীপথে নৌ পুলিশের থানা স্থাপনের দাবি জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন। নিজের বক্তব্যে পানিসম্পদমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে কথা শুরু করেন তিনি। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানতে চান, তিনি নৌ পুলিশের থানা চাইছেন কি না। ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, তিনি নৌ পুলিশের থানা স্থাপনের আবেদন করছেন।
এরপর স্পিকার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘মাননীয় প্রাণিসম্পদমন্ত্রী, আপনার আন্ডারে আছে নাকি থানা–পুলিশ? কিছু উত্তর দিন।’ জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘না, মুরগি নিয়ে আছি, পুলিশ আমার সাথে নাই।’ মন্ত্রীর এই জবাবে সংসদে হাসির রোল ওঠে। তবে তিনি বলেন, ওই এলাকায় কেউ ‘রিজার্ভের মাছ’ ধরলে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কিছু পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ করতে পারেন। এ ছাড়া তাঁর কিছু করার নেই।



