মামুনুল হক প্রসঙ্গে সংসদে বক্তব্য বাদ দিলেন স্পিকার
মামুনুল হক প্রসঙ্গে সংসদে বক্তব্য বাদ দিলেন স্পিকার

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হককে নিয়ে দেওয়া একটি বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের ‘অন্ধকার অংশ’ সংসদে আলোচিত হোক, তা তিনি মোটেও চান না।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা-১ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক ২০২১ সালে মামুনুল হককে ঘিরে আলোচিত একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তোলেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মাওলানা মামুনুল হক বড় বড় কথা বলছেন, বাজেট নিয়ে সরকারের পতন ঘটাবেন বলে হুমকি দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে এক নারীসহ ধরা পড়েছিলেন, মুতা বিয়ের নামে, সেটা আসলে কী ছিল? এই প্রসঙ্গ তুলতেই স্পিকার হস্তক্ষেপ করেন।

আবু আশফাকের বক্তব্যের পরপরই স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাকে অপ্রাসঙ্গিক বিষয় সংসদে না আনার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, একজন রাজনৈতিক নেতার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে মন্তব্য করা হয়েছে। সাধারণত যার এই সংসদে এসে সরাসরি জবাব দেওয়ার সুযোগ নেই, তার সম্পর্কে অভিযোগ তোলা সমীচীন নয়। মুতা বিয়ে প্রসঙ্গে স্পিকার কিছুটা রসিকতা করে বলেন, মুতা বিয়ে সম্পর্কে আমার কাছে কেন জানতে চাইলেন? আমাকে কি এসবের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মনে হয়? এগুলো নিয়ে সংসদে আলাপ-আলোচনা না হওয়াই ভালো।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তীব্র আপত্তি জানান বিরোধী দলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি দাবি করেন, মামুনুল হক সম্পর্কে দেওয়া তথ্যটি ‘একেবারেই ভুল’। সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, উনি মুতা বিয়ে করেন নাই। গাজীপুরে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে নাই। তাকে হেনস্তা করা হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। উনি বিয়ে করেছিলেন, এটা প্রতিষ্ঠিত। ভুল তথ্য সম্বলিত এই বক্তব্যটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার জন্য তিনি স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আলোচনায় অংশ নিয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও বলেন, যা অসংসদীয় এবং সমীচীন নয়, তা কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা হোক। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান মুতা বিয়ের ধর্মীয় ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, একসময় মুতা বিয়ে করা যেত। এটা এখন হারাম হয়ে গেছে, নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। এখন আর তা করা যাবে না।

সব পক্ষের বক্তব্য ও যুক্তি শোনার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানান। তিনি বলেন, মাওলানা মামুনুল হকের এ বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার প্রয়োজন নেই। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হোক, সেটা আমি চাই না। এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট বক্তব্যটি সংসদের রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি রিসোর্টে মামুনুল হককে এক নারীসহ অবরুদ্ধ করেন স্থানীয় ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ তৎকালীন সরকারদলীয় কর্মী-সমর্থকেরা। মামুনুল হক তখন দাবি করেন, ওই নারী তার বিবাহিত স্ত্রী। পরে পুলিশ গিয়ে মামুনুল হককে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে হেফাজতের কর্মী-সমর্থক ও মাদ্রাসার ছাত্ররা ওই রিসোর্টে হামলা চালিয়ে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন।