স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার কার্যালয় থেকে একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।
রোমা অটো রাইস মিল বিক্রির বিবরণ
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন রোমা অটো রাইস মিল জাতীয় নির্বাচনের আগে ব্যবসায়িক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এই তথ্য তার নির্বাচনী হলফনামায় উল্লেখিত সম্পদের বিস্তারিত বিবরণের অংশ হিসেবে প্রকাশ করা হয়।
প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম ফয়সাল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
হলফনামায় উল্লেখিত সম্পদ
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মীর শাহে আলমের ১ হাজার ৮২৪ শতক জমি রয়েছে এবং তিনি ১২টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়াতে পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে আসেন। পরবর্তীতে শেয়ার, ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক কার্যক্রম পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়, যারা এখন এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন।
মীর পরিবারের ব্যবসায়িক পরিচিতি
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সুপরিচিত মীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কৃষি, শিল্প এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক উদ্যোগের সাথে জড়িত, পাশাপাশি পারিবারিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা করছে।
হলফনামায় উল্লেখিত ব্যবসাগুলোর মধ্যে রয়েছে রোমা অটো রাইস মিল, রুপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রুপসী ফ্লাওয়ার মিল, মীর সীমান্ত-দিগন্ত ফিলিং স্টেশন, মীর লাবণী-সুনাত ফিলিং স্টেশন, মীর দিগন্ত ট্রেডিং এজেন্সি, উত্তরবঙ্গ ওভারসিজ লিমিটেড, রুপসী এগ্রিকালচারাল ফার্ম, রুপসী ফিশ ফার্ম, রুপসী কংক্রিট ব্রিকস ফ্যাক্টরি, রুপসী মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং রুপসী লাইভস্টক ফার্ম।
ব্যবসায়িক পুনর্বিন্যাস ও বিক্রয়
ব্যবসায়িক পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে রোমা অটো রাইস মিল ২ ফেব্রুয়ারি একটি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। ক্রেতা বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা গ্রামের ব্যবসায়ী রবিউল আলম। বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন মালিক মিলটি সম্পূর্ণরূপে দখলে নিয়েছেন এবং এর সমস্ত সম্পদ ও কার্যক্রম তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদন নিয়ে আপত্তি
একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের উল্লেখ করে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, হলফনামাটি আংশিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। হলফনামায় ১ হাজার ৮২৪ শতক জমি ও ১২টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ থাকলেও প্রতিবেদনে মাত্র ৩১ শতক জমির কথা বলা হয়েছে, যা প্রতিমন্ত্রীর ঘোষিত সম্পদের সম্পূর্ণ চিত্র প্রতিফলিত করে না।
বিবৃতিতে আরও দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে যে প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি ব্যক্তিগতভাবে ২৪২ শতক জমি কিনেছেন। বলা হয়েছে, উক্ত জমিটি মীর শাহে আলমের ব্যক্তিগত নামে নয়, বরং রুপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের নামে কেনা হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমে তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই।
দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান
বিবৃতিতে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, সংবাদ প্রতিবেদনে সম্পূর্ণ ও সঠিক তথ্য উপস্থাপন করা উচিত। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করার জন্য গণমাধ্যমকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর বা বিকৃত প্রতিবেদন কাম্য নয় এবং সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।



