জয়ের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলায় সপ্তম সাক্ষীর জবানবন্দি
জয়ের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলায় সপ্তম সাক্ষী

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১–এ আজ সোমবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে করা মামলায় সপ্তম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন মো. কবির হোসেন মৃধা। তিনি জুলাই শহীদ সানজিদ হোসেন মৃধার (১৬) বাবা। এ মামলার আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় পলাতক, অন্যদিকে জুনাইদ আহমেদ পলক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আজ তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

জবানবন্দির বিবরণ

জবানবন্দিতে কবির হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বেলা ৩টার দিকে তাঁর ছেলে সানজিদ হোসেন, তাঁর মেয়ে ও মেয়ের জামাই বিজয় মিছিলে অংশগ্রহণ করার জন্য উত্তরায় যান। সেখানে তাঁরা গুলির আওয়াজ শুনে দৌড় দেন। তাঁর ছেলে দৌড় দিয়ে আমির কমপ্লেক্সের সামনে গেলে গলায় গুলি লাগে। তিনি সেদিন রাত ৮টার দিকে ক্রিসেন্ট হাসপাতালে গিয়ে মৃত অবস্থায় ছেলেকে ফ্লোরে (মেঝেতে) দেখতে পান।

ক্রিসেন্ট হাসপাতালের চিকিৎসকেরা দ্রুত তাঁর ছেলের লাশ নিয়ে যেতে বলেন উল্লেখ করে কবির হোসেন বলেন, বাইরে প্রচুর গোলাগুলি হচ্ছিল বিধায় লাশ নিয়ে বের হতে পারছিলেন না তিনি। সে রাতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁর ছেলের লাশ বের করে দেয়। পরে রাতেই তিনি ছেলের লাশ নিয়ে রিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন। পথিমধ্যে অনেক জায়গায় বাধাপ্রাপ্ত হন এবং ছাত্রলীগের নির্যাতনের শিকার হন। গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের নির্দেশে তাঁর (জাহাঙ্গীর) ছেলেপেলেরা রড দিয়ে তাঁকে এবং রিকশাওয়ালাকে মারধর করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টঙ্গী এরশাদনগর সরকারি কবরস্থানে তাঁর ছেলের লাশ দাফন করার সময় সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের ছেলেরা বাধা দেয় উল্লেখ করে কবির হোসেন বলেন, তিনি তাঁদের হাতে–পায়ে ধরে ছেলেকে দাফন করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিচার দাবি

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে জয় ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী পলকের বিচার চান বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন কবির হোসেন। তিনি বলেন, হাসিনা, জয় ও পলকের বিচার চান, কারণ তাঁরা ইন্টারনেট বন্ধ না করলে সঠিক সময়ে তিনি তাঁর ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি জানতে পারতেন। সেই সঙ্গে তাঁর ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে পারতেন।