মুন্সিগঞ্জে যুবককে হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মুন্সিগঞ্জ থানা ফটকের সামনে বিক্ষোভ করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তোলাছবি: প্রথম আলো
মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
মুন্সিগঞ্জে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে আরিফ হোসেন (৩৭) নামের এক যুবককে হত্যার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে ঘণ্টাব্যাপী মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাব, শহরের প্রধান সড়ক ও সদর থানা ফটকের সামনে এসব কর্মসূচি পালন করেন নিহত ব্যক্তির স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
‘মুন্সিগঞ্জ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরশিলমান্দি ও পাঁচঘরিয়াকান্দি এলাকার জনগণ’–এর ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে আরিফের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শ মানুষ অংশ নেন।
নিহত পরিচয় ও মামলা
আরিফ হোসেন সদর উপজেলার চরশিলমান্দি এলাকার প্রয়াত আবদুল মতিনের ছেলে। তিনি পেশায় কসাইয়ের সহকারী ছিলেন। এর আগে গত শনিবার রাতে আরিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন রোববার সকালে পুলিশ তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। রোববার রাত ১২টার দিকে নিহত ব্যক্তির মা ফরিদা বেগম বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
ঘটনার পটভূমি
আজ সকাল সাড়ে ১০টা থেকে আরিফ হত্যার বিচারের দাবিতে মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে মানুষ জড়ো হতে থাকেন। বেলা ১১টার দিকে মানববন্ধন শুরু হয়। মানববন্ধনে বক্তারা জানান, আরিফের ছোট ভাই আকাশ মুন্সিরহাট বাজারে কসাইয়ের কাজ করতেন। সেই সূত্রে পার্শ্ববর্তী চরকিশোরগঞ্জ এলাকার আরেক কসাই নূর মোহাম্মদের সঙ্গে তাঁর আর্থিক লেনদেন হয়। ওই লেনদেনের ধারাবাহিকতায় নূর মোহাম্মদের কাছে আকাশের ৪৯ হাজার টাকা পাওনা ছিল।
বক্তাদের দাবি, ওই টাকা আদায়ের জন্য শনিবার সকালে নূর মোহাম্মদকে রাস্তা থেকে ধরে এনে মুন্সিরহাট বাজার কসাই সমিতির জিম্মায় রাখেন আকাশ। পরে শহরের যোগিনীঘাট এলাকার বাসিন্দা এনায়েত হোসেন দলবল নিয়ে সেখানে গিয়ে নূর মোহাম্মদকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বাজারের লোকজন এনায়েতকে মারধর করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আকাশ ও আরিফকে গুলি করে হত্যার হুমকি দেন এনায়েত। এর পরদিন সকালে আরিফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের বোনের বক্তব্য
মানববন্ধনে আরিফের বোন সীমা আক্তার বলেন, ‘টাকা নিয়ে বিরোধ ছিল নূর মোহাম্মদের সঙ্গে। অথচ এনায়েত গায়ে পড়ে আমার ভাইদের সঙ্গে বিবাদে জড়ান। শনিবার বাজারে সবার সামনে তিনি আমার দুই ভাইকে গুলি করে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, পরদিন সকালের সূর্য দেখতে দেবেন না।’
সীমা আরও বলেন, শনিবার রাতে এনায়েতের ছেলে নাঈম, ভাতিজা বাপ্পিসহ কয়েকজন দলবল নিয়ে আরিফ ও আকাশকে খুঁজতে আসেন। না পেয়ে বাড়িতে গালিগালাজ ও হুমকি দেন। সেদিন আকাশ আত্মগোপনে ছিলেন। আরিফ রাত ১১টার দিকে প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরদিন ভোরে তাঁর লাশ পাওয়া যায়।
মিছিল ও অবস্থান
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা শহরের সুপারমার্কেট সড়কে মিছিল করেন। পরে মিছিলটি সদর থানা ফটকের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে একই দাবিতে স্লোগান দেওয়ার পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে মুন্সিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় করা মামলার ১ নম্বর আসামি নূর মোহাম্মদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। হত্যার সঙ্গে জড়িত যে-ই হোক, তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে।



