খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় তরকারি পুড়ে যাওয়ায় এক গৃহকর্মীকে গরম কড়াই ও খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শকের (এএসআই) বিরুদ্ধে। তাঁকে বারান্দায় কান ধরে ওঠবস করানো ও লাঠি দিয়ে পেটাতে দেখেছেন স্থানীয় কয়েকজন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে (৯৯৯) কল করে তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নগরের সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্ক-সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই পপি মিত্র। ভুক্তভোগী তরুণী (২২) নরসিংদীর বাসিন্দা। মা–বাবা না থাকায় তিনি ছোটবেলা থেকেই সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তাঁর স্ত্রী এএসআই পপি মিত্রের বাসায় থেকে গৃহকর্মীর কাজ করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই বাসার বারান্দায় এক তরুণীকে কান ধরে ওঠবস করানো হচ্ছিল। তাঁর শরীর ছিল শীর্ণকায়। তাঁকে লাঠি দিয়েও আঘাত করা হচ্ছিল। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় কয়েকজনের সন্দেহ হয়। খবর পেয়ে ওই এলাকায় অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে অংশ নেওয়া কয়েকজন সংবাদকর্মী ও সামাজিক সংগঠনের নারীনেত্রীরা বাসার ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে প্রথমে তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। পরে তাঁরা ৯৯৯ নম্বরে কল করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বাসার ভেতর থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের সময় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি ও কড়াইয়ের ছ্যাঁকা দেওয়ার দাগ দেখা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী লোকজন। তরকারি পুড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর ওপর এই নির্যাতন চালানো হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (সোনাডাঙ্গা জোন) মো. হুমায়ুন কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘ভুক্তভোগী এতিম। ছোটবেলা থেকেই ওই পুলিশ দম্পতির পরিবারে থাকে। মাঝেমধ্যে শাসন করা হতো। তবে আজ সেই শাসন নির্যাতনের পর্যায়ে চলে গেছে। ঘটনার সময় এএসআই সঞ্জয় মিত্র সেখানে ছিলেন না। খবর পেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে সোনাডাঙ্গা থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে এসেছে। তাঁর চিকিৎসা চলছে। অভিযুক্ত আমাদের জিম্মায় আছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



