৫৭ দিনেই বদলি মানিকগঞ্জ পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজ খাগড়াছড়িতে
৫৭ দিনেই বদলি মানিকগঞ্জ পৌর নির্বাহী প্রকৌশলী আজিজ

মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ খান যোগদানের মাত্র ১ মাস ২৭ দিনের মাথায় বদলি হয়েছেন। তাকে খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন খাগড়াছড়ি পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম।

বদলির আদেশ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. সগীর হোসেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে বৃহস্পতিবার এ বদলি কার্যকর করা হয়। আদেশে আগামী ২৮ জুনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ২৯ জুন থেকে তাকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

অভিযোগ ও বিতর্ক

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মানিকগঞ্জ পৌরসভায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের গতি শ্লথ হয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারদের বিল সংক্রান্ত ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রেখে আর্থিক সুবিধা দাবি করতেন তিনি। দাবি অনুযায়ী অর্থ না দিলে বিল পরিশোধে নানা জটিলতা সৃষ্টি করা হতো।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সূত্র জানায়, পৌরসভার প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে কয়েকটি প্রকল্পের বিল প্রক্রিয়ায় ঠিকাদারদের হয়রানি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে চলতি বছরের মে মাসে সিআরডিবি-২ প্রকল্পের ১১তম চলতি বিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম নেয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রকল্পটির জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার বিল অনুমোদিত হলেও শেষ মুহূর্তে বড় অঙ্কের ঘুস দাবি করা হয়। ঠিকাদার পক্ষ সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে বিল থেকে ৯৯ লাখ টাকা বাদ দিয়ে ১ কোটি টাকার চেক ইস্যু করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে পৌর ভবনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মন্ত্রীর ক্ষোভ

সর্বশেষ ১৪ জুন মানিকগঞ্জ আইনশৃঙ্খলা সভায় মানিকগঞ্জ-৩ আসনের এমপি বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানের উপস্থিতিতে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে নানান পেশার লোকজন বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। এতে স্বয়ং মন্ত্রীও নির্বাহী প্রকৌশলীর কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ ও প্রকাশ্যে ভর্ৎসনা করেন। এর চার দিনের মাথায় তাকে বদলি করা হয় চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি পৌরসভায়।

এদিকে গত ১৪ জুন ক্ষুব্ধ পৌরবাসী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর রুমটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয় বলে পৌরসভার একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

প্রশাসকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ

পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান খানের বিরুদ্ধেও নির্বাহী প্রকৌশলীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নীরব সমর্থন বা সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আব্দুল আজিজের বক্তব্য

বদলি প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল আজিজ খান বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ৯৯ লাখ টাকার বিল পরিশোধের জন্য বিধি অনুযায়ী অফিসিয়াল নোট দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু প্রশাসক নিজ বিবেচনায় ৯৯ লাখ টাকা স্থগিত রেখে ১ কোটি টাকার বিল পরিশোধের নির্দেশ দেন। তবে ঠিকাদারদের কাছে ঘুস দাবি করার অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল আজিজ কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি এবং অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ ব্যাপারে পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ নাজমুল হাসান খানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার অফিসিয়াল মোবাইলে ফোন করা হয়। তবে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।