বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসান মিয়া প্রধানকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে তাঁকে আদালতে আনা হয়। এর আগে চার দিন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর দুপুরে ছাড়পত্র পান তিনি।
আদালতের কার্যক্রম
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে জিসান মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তাঁর পক্ষে আইনজীবী মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারী ও এস এম সাইদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁরা জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো রিমান্ড আবেদন করা হয়নি।
অভিযোগ ও গ্রেপ্তার
জিসান মিয়া (২৮) ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং সংগঠনটির কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি। কুমিল্লার দাউদকান্দির এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গত শুক্রবার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে তিনি নিজেকে অসুস্থ দেখিয়ে পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তিনি সুস্থ বলে প্রতিবেদন দেওয়ার পর আজ ছাড়পত্র পান।
আইনজীবীর অভিযোগ
আইনজীবী মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘দুপুর ১২টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর বিকেল সাড়ে পাঁচটায় তাঁকে আদালতে আনা হয়। পুলিশ ও ডিবির সদস্যরা অনেকটা নাটকীয় পরিবেশের মধ্যে তাঁকে আদালতে হাজির করেন। আমাদেরও তাঁর সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি।’
আইনজীবী এস এম সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী আসামিকে আদালত পুলিশের কাস্টডিতে দেওয়ার কথা। কিন্তু আদালত থেকে সরাসরি জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ কারণে আমরা তাঁর কাছ থেকে ওকালতনামায় স্বাক্ষর নিতে পারিনি। এমনকি আদালতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করারও সুযোগ পাইনি।’
ঘটনার বিবরণ
এর আগে জিসান মিয়া কথিত নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর শুক্রবার রাতে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় অচেতন অবস্থায় উদ্ধার হন বলে পরিবারের দাবি। পুলিশের ভাষ্য, তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন। ওই রাতে ওই নারী বাদী হয়ে দাউদকান্দি মডেল থানায় জিসানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলায় তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগ আনা হয়েছে।
জিসান ছাড়া গ্রেপ্তার অপর তিন আসামি হলেন সেকান্দর আলী (২৪), গোলাম রাব্বী (২৬) ও সজিব হাসান (২১)। তাঁদের সবার বাড়ি দাউদকান্দিতে। গত শনিবার বিকেলে তাঁদের কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



