দেশের বিভিন্ন কারাগারে কারাবন্দী মায়েদের সঙ্গে বর্তমানে কত শিশু রয়েছে, তাদের সংখ্যা, বয়স ও সার্বিক অবস্থার বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে দুই মাসের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের আদেশ
সোমবার (১৫ জুন) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হককে নিয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুলসহ এ আদেশ দেন। ‘কারাগারে বিপন্ন শৈশব’ শিরোনামে গত ৮ মে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং এ বিষয়ে প্রকাশিত মতামত সংযুক্ত করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ গত সপ্তাহে রিটটি দায়ের করেন।
আইনজীবীদের বক্তব্য
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী ফারজানা আক্তার ও হোসনে আরা বেগম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফারুক হোসেন। পরে আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ জানান, কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও সুষ্ঠু বিকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রসচিব, সমাজকল্যাণসচিব, কারা মহাপরিদর্শকসহ পাঁচ বিবাদীকে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
কারাগারে শিশুদের অবস্থা
কারা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে মায়েদের সঙ্গে ২৯৯ শিশু অবস্থান করছে। এর মধ্যে ১৫৩ জন কন্যাশিশু এবং ১৪৬ জন ছেলেশিশু। এসব শিশুর মায়েদের অধিকাংশই মাদক মামলার আসামি। কেউ সাজাপ্রাপ্ত, আবার কারও মামলা বিচারাধীন রয়েছে।



