গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের মাধ্যমে তদবির বাণিজ্য করতেন হাসনাত-সারজিস: রাশেদ খান
গাজী সালাউদ্দীনের মাধ্যমে তদবির বাণিজ্য করতেন হাসনাত-সারজিস

বিএনপি নেতা রাশেদ খান দাবি করেছেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম নিজেরা সরাসরি দুর্নীতি বা তদবির বাণিজ্য করেননি, বরং গাজী সালাউদ্দীন তানভীরের মাধ্যমে এই কাজ করিয়েছেন। বুধবার (১ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ দাবি করেন।

ডিসি নিয়োগ ও এনসিটিবি কেলেঙ্কারি

রাশেদ খানের পোস্টে উল্লেখ করা হয়, গণঅভ্যুত্থানের পরপরই সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে সচিবালয়ে রাত ২টা পর্যন্ত বসে ডিসির তালিকা প্রস্তুত করেন যুগ্ম সচিব কেএম আলী আজম ও ভুয়া সমন্বয়ক গাজী সালাউদ্দীন তানভীর। কেএম আলী আজম তানভীরকে 'স্যার' সম্বোধন করতেন, কারণ হাসনাত ও সারজিস তাকে সচিবালয়ে পাঠিয়েছিলেন।

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ তারিখে যুগান্তরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাজী সালাউদ্দীন তানভীর স্বীকার করেন, হাসনাত ও সারজিসের পরামর্শেই তিনি সচিবালয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, 'বিগত আন্দোলনে আমাদের ভূমিকা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। প্রশাসনের কোথায় কাকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তা দেখার কিংবা জানার অধিকার আমাদের আছে। এ কারণেই এখানে আসতে হয়।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

একইভাবে এনসিটিবিতেও তানভীরকে দায়িত্ব দিয়েছিল হাসনাত ও সারজিস। রাশেদ খান প্রশ্ন তুলেছেন, ডিসি নিয়োগ কেলেঙ্কারির পরেও কেন তানভীরকে এনসিটিবিতে দায়িত্ব দেওয়া হলো?

দুদকে অতিগোপনীয় অভিযোগ

২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল হাসনাত ও সারজিস দুদক চেয়ারম্যান আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন। তারা গণমাধ্যম এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। সাংবাদিকদের কাছে তারা দাবি করেন, 'অতিগোপনীয় অভিযোগ নিয়ে এসেছি।' রাশেদ খান বলছেন, আসলে সেই অভিযোগের নামে তানভীরসহ উপদেষ্টাদের এপিএস ও পিওদের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ রফাদফা করতেই তারা দুদকে গিয়েছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুদকের ক্লিন সার্টিফিকেট

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নিয়োগ পাওয়া দুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার ২০২৬ সালের ৩ মার্চ পদত্যাগ করেন। তার আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি দুদক আদালতে তানভীরের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার প্রতিবেদন দাখিল করে। আদালত তানভীরকে দায়মুক্তি দেয়। রাশেদ খান বলছেন, হাসনাত ও সারজিসদের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত দুদক কর্মকর্তারা তানভীরকে দায়মুক্তি দিয়েছেন।

টিআইবি প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ

রাশেদ খান উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক টিআইবি প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সুস্পষ্ট ঘুষ ও দুর্নীতির তথ্য উঠে এসেছে। তিনি সব বিষয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি জানিয়ে বলেন, 'নতুন করে সব তদন্ত হোক।'