গাজীপুরের ইসলাম গার্মেন্টস লিমিটেডের (ইউনিট-২) কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুর পর শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গাজীপুর শিল্প পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট (এসপি) মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন বুধবার দুপুর ১২টায় কারখানা বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
কারখানা বন্ধের কারণ
কারখানা কর্তৃপক্ষের দাবি, গত ২৮ জুন শ্রমিকরা তাদের কর্মস্থল ত্যাগ করে এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করে উৎপাদন ব্যাহত করে। এরপর ২৯ ও ৩০ জুন শ্রমিকরা কারখানায় উপস্থিত হয়ে উপস্থিতি নিবন্ধন করলেও কাজ করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও উৎপাদন বন্ধ রাখে। এই ঘটনাকে অবৈধ ধর্মঘট হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ১৩(১)-এর অধীনে কারখানাটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
শ্রমিকের মৃত্যু ও বিক্ষোভ
শ্রমিকরা জানান, গত ২৭ জুন ডিউটির সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন ৪৫ বছর বয়সী সুইং অপারেটর রুবিনা বেগম। কারখানার মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে কোনাবাড়ির একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে রেফার করা হয়, সেখানেই ওই দিনই তার মৃত্যু হয়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা না দেওয়ার কারণেই রুবিনার মৃত্যু হয়েছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেছে। রুবিনা বেগম সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মেঘাই গ্রামের প্রয়াত সুমার আলী সরকারের মেয়ে এবং গাজীপুরের কোনাবাড়ি (জোড়ুন) এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
পুলিশের তদন্ত
এসপি মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ শ্রমিকদের অভিযোগ তদন্ত করছে। তিনি বলেন, 'শ্রমিকরা দাবি করছেন, সময়মতো হস্তক্ষেপ করলে ঘটনা এড়ানো যেত। চিকিৎসায় কোনো অবহেলা বা বিলম্ব হয়েছে কিনা তা আমরা খতিয়ে দেখছি।'
এসপি আরও জানান, চিকিৎসকদের মতে রুবিনার পূর্ব-বিদ্যমান স্বাস্থ্য জটিলতা ছিল, তবে তদন্ত এখনও চলছে। তিনি বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে ভাঙচুর বা সহিংসতা হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে কার্যক্রম স্থগিত করেছে। বর্তমানে কারখানার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
প্রতিক্রিয়া
কারখানার উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) তানভীর এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি, জানিয়ে বলেন তিনি মিটিংয়ে ব্যস্ত এবং পরে কথা বলবেন।



