লক্ষ্মীপুরে স্কুলে সিফার আসনে ফুল, সহপাঠীদের কান্না
লক্ষ্মীপুরে সিফার আসনে ফুল, সহপাঠীদের কান্না

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর মার্চেন্টস একাডেমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে গত মঙ্গলবার সকালে দেখা যায়, সামনের দিকের একটি বেঞ্চের আসনে কেউ বসেনি। সেখানে রাখা হয়েছে ফুল। এই আসনটিতে নিয়মিত ক্লাস করত ফাতেমা আক্তার ওরফে সিফা (১০)। গত বৃহস্পতিবার ঘরে আরও দুই বোন ও মায়ের সঙ্গে খুন হয় শিশুটি। তার প্রতি শোক জানিয়ে বিদ্যালয়ে তার আসনটিতে ফুল রাখা হয়েছে।

শ্রেণিকক্ষে ব্যানার ও ছবি

শ্রেণিকক্ষে বোর্ডের পাশে সিফার প্রতি শোক জানিয়ে একটি ব্যানারও ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। সেখানে রয়েছে সিফার ছবি। সেই ছবি বারবার সিফার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে তার সহপাঠীদের। বিদ্যালয়ের ৫২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৬ জন উপস্থিত ছিল। অনুপস্থিত ৬ জনের একজন সিফা। সিফার কথা জিজ্ঞাসা করতেই সহপাঠীদের চোখ ছলছল করে ওঠে।

সহপাঠীদের আবেগঘন প্রতিক্রিয়া

সিফার সহপাঠী হাছিবা আক্তার বলে, ‘আমি প্রায়ই ওর পাশে বসতাম। একসঙ্গে খেলতাম। সব সময় মনে হচ্ছে, এই বুঝি সে এসে বলবে, চল একসঙ্গে বসি।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চতুর্থ শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী মিফতাহুল জান্নাত বলে, ‘সিফাকে ক্লাসে না দেখে খুব খারাপ লাগে। এখনো বিশ্বাস করতে পারি না, ও আর আমাদের সঙ্গে কখনো পড়বে না। আর কোনো দিন স্কুলে আসবে না।’

শিক্ষকদের বক্তব্য

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর এ আলম মাহমুদ বলেন, ‘শান্ত ও মেধাবী শিশুটিকে এভাবে হারিয়ে ফেলব, তা কখনো ভাবিনি। ক্লাসে ঢুকলেই কেবল ওর কথা মনে পড়ে।’ শিক্ষকেরা জানান, চতুর্থ শ্রেণিতে সিফার রোল নম্বর ছিল ১৪। বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত থাকত সে।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ

গত বৃহস্পতিবার রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকার নদীর পাড়ের একটি ভাড়া বাসায় হত্যার ঘটনাটি ঘটে। এতে নিহত হন শাহিনুর বেগম (৪০) ও তাঁর তিন মেয়ে সাইমা আক্তার (২১), নাফিসা আক্তার ইকরা (১৭) ও ফাতেমা আক্তার সিফা (১০)। তাঁদের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা রায়পুরে ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও মৃত্যু

ঘটনার পর পালানোর সময় খুনে অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার নামের (২৮) এক যুবককে স্থানীয় জনতা আটক করে গণপিটুনি দেন। তাঁর বাবার নাম কার্তিক মজুমদার। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা। পরে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়।