ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে পরিকল্পিতভাবে চার বন্ধু মিলে গণধর্ষণ করে হত্যার ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আসামি আরিফ ও রাকিব। মঙ্গলবার বিকালে জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোয়াতলা ইউনিয়নের টাংগাটি গ্রামের চার বন্ধু আরিফ, রাকিব, মারুফ ও সায়েম গত কয়েক দিন ধরে কাউকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করছিল। সোমবার সন্ধ্যায় তারা একই গ্রামের ওই শিশুকে কদম ফুল দেওয়ার কথা বলে কংশ নদীর পাড়ে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে চার বন্ধু মিলে শিশুটিকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে নদীতে ফেলে দেয় তারা।
লাশ উদ্ধার ও গ্রেফতার
পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজির পর শিশুটির লাশ নদী থেকে উদ্ধার করে। গোসল করানোর সময় ধর্ষণের আলামত দেখে তারা স্থানীয় চেয়ারম্যান জাকিরুল ইসলাম টুটনকে জানায়। চেয়ারম্যান পুলিশকে জানালে রাতেই ধোবাউড়া থানার ওসি শফিকুল ইসলাম নিজে গিয়ে লাশ থানায় নিয়ে আসেন। পরে সন্দেহভাজন হিসেবে আরিফকে গ্রেফতার করা হয়। তার তথ্যমতে বাকি তিনজনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
আসামিদের পরিচয়
গ্রেফতারকৃত চার বন্ধুর মধ্যে একজন সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী, একজন এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে এবং অপর দুজন নির্মাণ শ্রমিক।
প্রতিক্রিয়া ও বিচার দাবি
শিশু হত্যার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। এত ছোট শিশুকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনার বিচার দাবি করছেন এলাকাবাসী। ইতোমধ্যে এলাকার সচেতন মহল বিচার দাবিতে মানববন্ধন করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিদর্শন
মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া এবং পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম। তারা দ্রুত বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বুধবার শিশুর বাড়িতে যান এবং পরিবারকে সমবেদনা জানান। তিনি বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। শিশু রামিসা হত্যার বিচারের মতো প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনও পরিবারকে সমবেদনা জানান।



