প্রকল্পস্থলে তথ্যবোর্ড ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর ঘোষণা নৌপ্রতিমন্ত্রীর
প্রকল্পস্থলে তথ্যবোর্ড ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর ঘোষণা

উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এখন থেকে প্রতিটি প্রকল্পস্থলে তথ্যসমৃদ্ধ ডিসপ্লে বোর্ড স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। তিনি বলেন, প্রতিটি ঘাটে আটটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা এবং একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দৌলতদিয়া ঘাট পরিদর্শন

বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ৪ ও ৫ নম্বর ফেরিঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নকাজের প্রতিটি স্থানে স্থাপিত ডিসপ্লে বোর্ডে প্রকল্পের নাম, নকশা, ব্যবহৃত উপকরণের পরিমাণ এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ থাকবে। এতে সাধারণ মানুষ ও গণমাধ্যম সহজেই প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল ঘাট

তিনি বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটকে আরও নিরাপদ, আরামদায়ক ও সুশৃঙ্খল করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এ লক্ষ্য অর্জনে গণমাধ্যম ও জনগণের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নদীভাঙন ও স্থায়ী সমাধান

নদীভাঙন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দৌলতদিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র নদীভাঙন চলছে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের কাছে নদীশাসনের একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি আরও বলেন, স্থায়ী নদীশাসন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় অস্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাঁশ ব্যবহারের বিতর্ক

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের নতুন অ্যাপ্রোচ সড়কে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ঘাটে বাঁশ ব্যবহার কোনো অনিয়ম নয়; বরং এটি প্রকৌশল নকশা ও অনুমোদিত ব্যয়ের (এস্টিমেট) অংশ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি করা সরকারের দায়িত্বের অংশ। কোথাও কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম রয়েছে কিনা, তা যাচাই করতেই আমি এসেছি।

তিনি জানান, সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, রডের পরিবর্তে বাঁশ দিয়ে অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি বাস্তব পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, তদন্তে দেখা গেছে, অ্যাপ্রোচ সড়কে যে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে, তা অনুমোদিত নকশা ও এস্টিমেট অনুযায়ীই করা হচ্ছে। এসব অ্যাপ্রোচ সড়ক স্থায়ী নয়; সাধারণত দুই থেকে তিন মাসের বেশি থাকে না। নদীর পানি ওঠানামা ও তীব্র ভাঙনের কারণে এখানে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি আরও বলেন, ১৯৬৩ সাল থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে একই পদ্ধতিতে অস্থায়ী অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ হয়ে আসছে। বাঁশ ব্যবহার করা হয় যাতে নদীর পাড়ের মাটি সরে না যায় এবং প্রয়োজনে সহজেই স্থানান্তর বা অপসারণ করা যায়। স্থায়ীভাবে রড ও কংক্রিট ব্যবহার করলে ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাবে, অথচ নদীর গতিপ্রকৃতির কারণে অল্প সময়েই তা অকার্যকর হয়ে পড়তে পারে।

গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান

গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী বা দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নকশা, এস্টিমেট ও কারিগরি বিষয়গুলো যাচাই করা উচিত। দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি এড়ানো সম্ভব।

পরিদর্শনকালে বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসিসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।