রামমন্দিরের অর্থ আত্মসাত: বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ কংগ্রেসের
রামমন্দিরের অর্থ আত্মসাত: বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ কংগ্রেসের

অযোধ্যার রামমন্দিরে দানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। এ ঘটনায় কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেছে ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস। দলটির অভিযোগ, রামমন্দিরকে ঘিরে যে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

অযোধ্যায় কংগ্রেসের কর্মসূচিতে বাধা

মঙ্গলবার রামমন্দির ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় যাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল কংগ্রেস। তবে দলটির দাবি, কর্মসূচি শুরুর আগেই উত্তর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অজয় রায়সহ কয়েকজন নেতাকে পুলিশ আটকে দেয়। কংগ্রেসের অভিযোগ, অজয় রায়কে তার বাসভবনে কার্যত গৃহবন্দী করে রাখা হয় এবং দলের প্রতিনিধিদের অযোধ্যায় যেতে বাধা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব কেন্দ্র ও উত্তর প্রদেশ সরকারের সমালোচনা করে।

জয়রাম রমেশের বক্তব্য

দলটির সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, উজ্জয়িনী থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদীর নীরবতা ভাঙার আহ্বান জানান এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুপ্রিয়া শ্রীনাতের দাবি

অন্যদিকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করে কংগ্রেসের মুখপাত্র সুপ্রিয়া শ্রীনাতে বলেন, রামমন্দিরে ভক্তদের দানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ শুধু আর্থিক অনিয়মের বিষয় নয়, এটি কোটি কোটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বিশ্বাসের সঙ্গেও জড়িত। তার দাবি, ভূমিপূজন থেকে প্রাণপ্রতিষ্ঠা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাই অভিযোগ ওঠার পর এ বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সুপ্রিয়া শ্রীনাতে অভিযোগ করেন, ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত না করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত নয়, সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান কোনো বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে যাদের নাম উঠে এসেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান।

কংগ্রেসের দাবি: স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি

কংগ্রেসের দাবি, শুধু ব্যক্তিগত দায় নির্ধারণ নয়, রামমন্দির পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি। দলটির বক্তব্য, তদন্তে যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এদিকে বিজেপি বা রামমন্দির ট্রাস্টের পক্ষ থেকে কংগ্রেসের এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রামমন্দির ভারতের রাজনীতিতে অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়। তাই এ ধরনের অভিযোগ এবং তা ঘিরে রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আগামী দিনেও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে থাকতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কংগ্রেস বিষয়টিকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, অন্যদিকে বিজেপির জন্যও অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বিতর্কের নতুন মাত্রা

এদিকে অযোধ্যায় কংগ্রেসের কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার ঘটনাও নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিরোধী দলটির অভিযোগ, গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ জানানোর সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে উত্তর প্রদেশ প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

রামমন্দিরে দানের অর্থ নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এবং এ নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।