নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষ্যা ইউনিয়নে স্থানীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের ভেস্ট পরিহিত অবস্থায় আব্দুল লতিফ নামে আরও এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের মেঘনা নদী হতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুল লতিফ (৩৫) নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের বীরগাঁও কান্দাপাড়া এলাকার শহিদ মিয়ার ছেলে।
সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪
স্থানীয়দের তথ্যমতে, এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারজনে। পুলিশের পক্ষ থেকে পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের কথা নিশ্চিত করেছেন রায়পুরা থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান। তাছাড়া এর আগে গত মঙ্গলবার সংঘর্ষ চলাকালে পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে অনিক মিয়া (২২) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন।
মরদেহ উদ্ধারের বিবরণ
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে রায়পুরা থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান, গোপীনাথপুর রফিক মেম্বারের বাড়ির সামনে মেঘনা নদীতে মরদেহ ভাসতে দেখে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ নিয়ে পুলিশ তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের কথা স্বীকার করেছে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, এখনও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে সংঘর্ষের সময় একটি পক্ষ প্রতিপক্ষের লোকদের হত্যা করে লাশগুলো বোটযোগে নিয়ে অজ্ঞাত স্থানে ফেলে দেয়।
নিখোঁজের সংখ্যা ও পূর্বের ঘটনা
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা গণমাধ্যমকে বলেন, ওই সংঘর্ষে পর থেকে বুলবুল, লতিফসহ ৮ থেকে ১০ জন এখনও নিখোঁজ। এর আগে গত মঙ্গলবার ভোরে নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামে দুপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারায় অনিক (২০) নামের এক তরুণ। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০জন।
আধিপত্য বিরোধের পটভূমি
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দড়িগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। ২০২৫ সালের ৮ ডিসেম্বর একই বিরোধে সংঘর্ষে নিহত হন ‘মিস্টার গ্রুপের’ সমর্থক প্রবাসী যুবক মামুন। সেই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে গ্রামজুড়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। মামলার আসামি জবা মেম্বার ও তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে থাকলেও থেমে থাকেনি আধিপত্যের লড়াই। মঙ্গলবার ভোরে সেই উত্তেজনা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, স্পিডবোটে করে সশস্ত্র লোকজন নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করে ‘জবা গ্রুপ’। তাদের প্রতিহত করতে এগিয়ে যায় প্রতিপক্ষ ‘মিস্টার গ্রুপের’ সমর্থকরা। মুহূর্তেই শুরু হয় গোলাগুলি। চোখের পলকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো গ্রাম। সেই সংঘর্ষে মাথায় গুলিবিদ্ধ হন অনিক।
অন্যান্য মরদেহ উদ্ধার
এদিকে সংঘর্ষের দিন (মঙ্গলবার) নিলক্ষ্যা ইউনিয়নের সোনাকান্দি এলাকার হরজু মিয়ার ছেলে বুলবুল মিয়া (৩৫) এবং পূর্বপাড়া এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য ওসমান মিয়ার ছেলে অনিক মিয়া (২২) ও বুধবার বিকেলে সদর উপজেলার জিৎরামপুর এলাকা হতে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউছার মিয়া (৩৫) নামে এক প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার উদ্ধার করা হয় আব্দুল লতিফের (৩৫) মরদেহ।



