মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় নিখোঁজের ৫২ দিন পর আওলাদ হোসেন (৬০) নামের এক ব্যক্তির মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার রাতে উপজেলার চাইনপাড়া গ্রামে প্রতিবেশী স্বজনের রান্নাঘরের মেঝে খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিখোঁজ ও মামলা
আওলাদ হোসেন একই গ্রামের মৃত ফরিদ শেখের ছেলে। তিনি গত ৯ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন সাইফুল ইসলাম (৪২), বিন আমিন (৩৮) ও রিপন (৩৫)।
পুলিশের দাবি, সম্পত্তি লিখে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওলাদ হোসেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী রানী বেগম (৩৮) ও তাঁর সহযোগীরা জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পারিবারিক বিরোধ ও হত্যার কারণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওলাদ হোসেনের প্রথম স্ত্রী নাজমা বেগম কয়েক বছর আগে মারা যান। প্রায় তিন বছর আগে তিনি প্রতিবেশী মানিক ব্যাপারীর শ্যালিকা রানী বেগমকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে স্বামীর সম্পত্তি নিজের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতেন রানী বেগম। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল।
গত ৯ মে আওলাদ হোসেন নিখোঁজ হওয়ার পর স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। পরদিন ১০ মে তাঁর ভাই বেলায়েত হোসেন সিরাজদিখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে ২৩ মে বেলায়েত হোসেন বাদী হয়ে রানী বেগম ও মানিক ব্যাপারীকে আসামি করে অপহরণের মামলা করেন। এটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। এই মামলায় ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ও মরদেহ উদ্ধার
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আওলাদ হোসেন আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার পর থেকে রানী বেগম, প্রতিবেশী মানিক ব্যাপারী ও পাশের একটি গরুর খামারের কর্মী সাইফুল ইসলাম নিখোঁজ ছিলেন। তাঁদের একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি পুলিশের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করে।
ওসি বলেন, গতকাল সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাভারের একটি গরুর খামার থেকে সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সাইফুল জানান যে আওলাদ হোসেনকে হত্যার পর পাশের মানিক ব্যাপারীর রান্নাঘরের মেঝের নিচে মরদেহ পুঁতে রাখা হয়েছে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাটি খুঁড়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রানী বেগমের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায়। আওলাদ হোসেন তাঁর তৃতীয় স্বামী ছিলেন।
তদন্ত ও ময়নাতদন্ত
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ ধারণা করছে, আওলাদ হোসেন নিখোঁজ হওয়ার দিনই সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত চলছে। উদ্ধার হওয়া মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।



