পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেফতার হয়েছেন। অতীতে দুবাই থেকে আসামি ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ যেমন সফল হয়েছে, তেমনি আছে পুলিশ হত্যা মামলার আসামি আরাভ খানকে ফেরাতে না পারার উদাহরণও। আসামিদের ফেরত আনার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দুই পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন।
সফল প্রত্যর্পণের উদাহরণ
২০২৩ সালে দুবাই থেকে একজন এবং চলতি বছরে দুবাই ও কাতার থেকে একজন করে আসামিকে বাংলাদেশে ফেরত আনা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মাধ্যমে পলাতক আসামিদের দেশে ফেরানোর উদাহরণ রয়েছে। যেমন নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ খান হত্যা মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের জুলাইয়ে অন্যতম আসামি মহসিন মিয়াকে ফিরিয়ে আনা হয় এবং সর্বশেষ গত ৬ মে এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি আরিফ সরকারকেও দুবাই থেকে দেশে ফিরিয়ে আনে বাংলাদেশ পুলিশ। একইভাবে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মাথাবিহীন আব্রাহাম খান হত্যা মামলার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি মোবারক মণ্ডল হত্যাকাণ্ডের পর কাতারে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির মাধ্যমে কাতারে তার অবস্থান শনাক্ত করে গত ২৭ মে তাকেও দেশে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ। অর্থাৎ এই উদাহরণ দুটি বলছে, সংশ্লিষ্ট দেশ সহযোগী হলে এবং নথিপত্র শক্ত হলে প্রত্যর্পণ সম্ভব।’
জটিলতার উদাহরণ: আরাভ খান ও জিসান আহমেদ
পুলিশের বিশেষ শাখার পরিদর্শক মামুন এমরান খান হত্যা মামলায় আরাভ খান নামে পরিচিত রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করা হয়েছিল। কিন্তু তাকে দেশে ফেরানোর কাজটি জটিল ছিল বলে জানান এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘তিনি (আরাভ খান) দুবাইয়ে অবস্থান করছিলেন, কিন্তু তাকে দেশে ফেরানো জটিল হয়ে যায়। কারণ, তার কাছে ভারতীয় পাসপোর্ট থাকার তথ্য আসে। অর্থাৎ তিনি বাংলাদেশি নাগরিক হলেও অন্য দেশের পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট ব্যবহার করায় শেষ পর্যন্ত তাকে ফেরানো যায়নি। এ ধরনের বহুপক্ষীয় জটিলতা প্রত্যর্পণকে দীর্ঘ ও অনিশ্চিত করে। আরেকটি উদাহরণ শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ। ২০১৯ সালে তাকে দুবাইয়ে গ্রেফতারের খবর আসে। বাংলাদেশ তাকে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু পরে তার অবস্থান নিয়েই অস্পষ্টতা তৈরি হয়। তিনি ভারতীয় ও ডমিনিকান রিপাবলিকের পাসপোর্ট ব্যবহার করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাকে বাংলাদেশে আনা যায়নি। এসব ঘটনা দেখায়, গ্রেফতার সংক্রান্ত খবর থাকলেও সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত, পাসপোর্ট, নাগরিকত্ব ও পরিচয়সংক্রান্ত জটিলতা প্রত্যর্পণের পথে বড় বাধা হতে পারে।’
বেনজীরের ক্ষেত্রে কী হতে পারে?
ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে সম্প্রতি বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতার করে দুবাই পুলিশ। পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) কাজ করা একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের ঘটনা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য বড় অগ্রগতি। তবে এটি শেষ ধাপ নয়। পুলিশের রেড নোটিশে কোনো ব্যক্তি শনাক্ত বা গ্রেফতার হতে পারেন, কিন্তু তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো নির্ভর করে যে দেশে তিনি আটক হয়েছেন, সেই দেশের আইন, আদালত, প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত চুক্তি, কূটনৈতিক তৎপরতা এবং মামলার নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতার ওপর।
বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি করানো এক বিষয়, পলাতককে দেশে ফেরানো আরেক বিষয়। ইন্টারপোলের ওয়েবসাইটে ‘রেড নোটিশের’ তালিকায় এখন ৫৯ বাংলাদেশির নাম আছে। তাদের মধ্যে শীর্ষ সন্ত্রাসী, হত্যা মামলার আসামি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার পলাতক দণ্ডিত ও নানা মামলার পলাতক আসামিরা আছেন। কিন্তু তাদের অধিকাংশকে দেশে ফেরানো যায়নি।
প্রত্যর্পণ চুক্তি ও আইনি ভিত্তি
বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বর্তমানে কোনও কার্যকর দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি নেই। তবে ২০১৪ সালে দুই দেশের মধ্যে সই করা ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন সিকিউরিটি কো-অপারেশন’ এবং ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন ট্রান্সফার অব সেন্টেন্সড প্রিজনার্স’ বিচারিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে। প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও বাংলাদেশের ‘এক্সট্রাডিশন অ্যাক্ট, ১৯৭৪’-এর ধারা ৪ অনুযায়ী সরকার চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে আইনের আওতায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে পারে।
আইনজীবী ও কর্মকর্তাদের মতামত
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘তাকে ফেরানোর এই প্রক্রিয়াটা কঠিন হবে না। কারণ ইন্টারপোলের রেড ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে সেখানকার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তিনি যদি ওখানে কোনো অপরাধ না করে থাকেন তাহলে তো বুঝতে হবে ইন্টারপোলের নোটিশে তাকে ধরা হয়েছে। এই রেড নোটিশ হয়েছিল আমাদের দুদকের আবেদনের ভিত্তিতে। চিঠিতে তারা সেই কথাটিই জানিয়েছে। অর্থাৎ তাকে ফেরত দেওয়ার এক ধরনের সদিচ্ছা আছে আরব আমিরাতের। ফলে একটু সময় লাগলেও তাকে ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। এখন সরকারকে বাকি প্রক্রিয়াটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করতে হবে।’
পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ইতোমধ্যে আমরা দুদকের সঙ্গে বৈঠক করে নথি গোছানোর কাজ শুরু করেছি। কারণ দুদকের মামলার রেড ওয়ারেন্টে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমাদের নথিপত্র গোছাতে কয়েকজন লাগতে পারে। তবে যত দ্রুত সম্ভব আমরা এগুলো গুছিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবো। সেখান থেকে পাঠানো হবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। ৩০ দিনের মধ্যে কাজটা করতে হবে, সেটাও আমাদের মাথায় আছে। এর অনেক আগেই আমরা প্রক্রিয়াটা সম্পন্ন করতে চাই।’
বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে গুম, খুন ও গণহত্যার অন্তত ১০টি মামলার তদন্ত চলছে। এসব মামলার তথ্য একত্রিত করে পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোতে (এনসিবি) পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের প্রধান কৌঁসুলি মো. আমিনুল ইসলাম। গত সোমবার প্রসিকিউশন কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘বেনজীর যখন র্যাবের প্রধান ছিলেন, তখন গুমের সঙ্গে যেগুলো (মামলা) অলরেডি চলমান আছে, তার মধ্যে বিচার চলছে। বেনজীরকে শাপলা চত্বরের ঘটনার অন্যতম কুশীলব। তার বিরুদ্ধে আমাদের তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। চট্টগ্রামের একরাম কমিশনার হত্যাকাণ্ড, তার সঙ্গেও তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল, সেখানেও তিনি আছেন। আরও অন্তত ৭ থেকে ১০টি মামলার তদন্ত চলমান আছে, যেগুলোর প্রত্যেকটার মধ্যে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা আছে।’
বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতির সব নথিপত্র গোছাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে কূটনৈতিক চ্যানেলে এই নথিগুলো দ্রুত পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম। সোমবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দুবাইতে গ্রেফতার হওয়া বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সব নথিপত্র তৈরির প্রস্তুতি চলছে। দুর্নীতির এসব নথিপত্র চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হবে। কেননা, প্রমাণ শতভাগ সঠিক না হলে তাকে ফেরানো কঠিন হবে।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে। তখন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ছিলেন বাহারুল আলম। তিনি বলেন, ‘ইন্টারপোলের কাজ ছিল রেড নোটিশ জারি করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো। এখন বিষয়টি মূলত বাংলাদেশ সরকার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের মধ্যকার প্রক্রিয়া। কারণ, রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে, কিন্তু দেশে ফেরাতে হলে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে। রেড নোটিশের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেফতার করা গেলেও অনেক সময় তাকে ফেরানো যায় না। কেউ অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করেন, কেউ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অস্বীকার করেন। এ ধরনের জটিলতায় আগেও পলাতক আসামিদের ফেরানো সম্ভব হয়নি। তাই বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে হলে যথাযথ নথিপত্র, পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিম ফেরদৌস বলেন, ‘বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে অবশ্যই কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ চুক্তি আছে কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এখানে কিন্তু ইন্টারপোলের নোটিশের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে দুবাই পুলিশ। তিনি সেখানে কোনো অপরাধ করেছেন এমন উল্লেখ নেই। আবার ইন্টারপোলেরও কোনো কারাগার নেই যে, তারা আটকে রাখবে। সংশ্লিষ্ট দেশের কারাগারেই তাকে রাখতে হয়। তারা তো আর বিনা কারণে কাউকে আটকে রাখবে না। আমরা যদি পর্যাপ্ত তথ্য উপাত্ত দিতে পারি তাহলে তাকে ফিরিয়ে না দেওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে এটাও সত্যি যে, তিনি এখনও বাংলাদেশের নাগরিকত্ব রেখেছেন কিনা? যদি অন্য দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে নেন তাহলে খানিকটা ঝামেলা হতে পারে। তবে আশার কথা, আমাদের নাগরিক বলেই তো দুবাই আমাদের জানিয়েছে।’
বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা
দুর্নীতি ও পাসপোর্ট জালিয়াতির মামলায় সাবেক আইজিপিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় বিচার চলছে। বাকি পাঁচটি মামলার তদন্ত চলমান। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপপরিচালক (মিডিয়া) আকতারুল ইসলাম বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হওয়ার পরও বেনজীর আহমেদ জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক বেসরকারি পাসপোর্ট গ্রহণ করেছিলেন। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর গত বছর অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগে একাধিক মামলা করা হয়। মামলাগুলোর তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়। এর মধ্যে ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, বিভিন্ন জেলায় শত শত বিঘা জমি, কোম্পানির শেয়ার, ব্যাংক হিসাব ও সঞ্চয়পত্র রয়েছে।
সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় সেই তথ্য গোপন করে বেসরকারি চাকরিজীবী হিসেবে বেনজীর আহমেদ পাসপোর্ট নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৬ সালে র্যাবের মহাপরিচালক থাকার সময় তিনি এই কাজটি করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা
২০২১ সালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র্যাবের সাবেক ও বর্তমান সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা কর্মকর্তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদও ছিলেন, যদিও তখন র্যাবে দায়িত্ব পালন শেষে আইজিপি পদে ছিলেন তিনি। তিনি র্যাবের প্রধান ছিলেন ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ২০২২ সালের আগস্টে বেনজীর আহমেদ জাতিসংঘের পুলিশপ্রধান সম্মেলনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যান। তবে সম্মেলনের কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার বাইরে ওই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোথাও তিনি যেতে পারেননি।
বাংলাদেশের প্রথম পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, র্যাবের মহাপরিচালক এবং পরে পুলিশের মহাপরিদর্শক, এই তিন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বেনজীর আহমদ। ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি পদে ছিলেন। এরপর তিনি অবসরে যান। দুর্নীতির খবর প্রকাশের পর দুদকের অনুসন্ধান শুরু হলে ২০২৪ সালের ৪ মে দেশ ছেড়েছিলেন বেনজীর।
সূত্র: ডয়চে ভেলে



