বুধবার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, দেশব্যাপী জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ বেশ কিছু প্রযুক্তিনির্ভর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং বহুমুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে সেগুলো বাস্তবায়ন করছে।
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
সংসদে ক্ষমতাসীন দলের সদস্য নিলুফার চৌধুরী মণির (মহিলা আসন-১০) এক তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক ও অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্য উদ্ধারে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত ও বিশেষ পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা
তিনি বলেন, চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি দৃশ্যমান পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদ দমনে উদ্যোগ
সন্ত্রাসবাদ দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে, যাতে কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিতে না পারে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাহউদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, লোকেশন ট্র্যাকিং ও মোবাইল কল লিস্ট বিশ্লেষণের মতো আধুনিক প্রযুক্তি অপরাধী শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলা
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম ব্যবহার করে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে এবং প্রযুক্তি-সহায়ক ব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অপরাধী শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে সহায়তা করছে।
সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং
মন্ত্রী বলেন, ফেসবুক ও এক্স-সহ সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে ঘৃণামূলক ছবি, ভিডিও, মন্তব্য ও গুজব ছড়িয়ে পড়লে তা অস্থিরতা বা অবাঞ্ছিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে—এমন বিষয়গুলো প্রতিরোধে নিবিড় নজরদারি চালানো হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে চলমান অভিযানে অনলাইন ডেটা এন্ট্রি সিস্টেম ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) সক্ষমতা বাড়াতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, জনগণের জন্য পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর আধুনিকীকরণের কাজও চলছে।



