বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমার সীমান্তসহ সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। বুধবার সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে উদ্যোগ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার সীমান্তে হত্যা, অনুপ্রবেশ, মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভারত সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টেও বেড়া নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে।
বিএসএফের ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা
এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বাংলাদেশে ২ হাজার ৩৬৯ জনকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে। এর মধ্যে ১১ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়, ১৮৩ জনকে ফেরত পাঠানো হয় এবং বাকিদের থানায় পাঠানো হয়। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিএসএফের ৩৬টি ধাক্কা দেওয়ার প্রচেষ্টা প্রতিরোধ করেছে।
সীমান্ত হত্যা ও ক্ষতিপূরণ
মন্ত্রী বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যাকে গভীরভাবে দুঃখজনক এবং মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত বৈঠকে এই বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিএসএফের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।
মাদক ও চোরাচালান দমন
সালাহউদ্দিন সংসদকে জানান, ২০২৫ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মে পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় ২ হাজার ১৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত ৯ হাজার ২৫১টি মামলায় ৯ হাজার ৬৮৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে।



