লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় শিশু হত্যার আসামিকে রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের সাথে উত্তেজিত জনতার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ প্রধানসহ কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গাড়িসহ সরকারি ৭টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
সকালে একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে সাত বছর বয়সী এক শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি বস্তাবন্দি অবস্থায় মাটি চাপা দেওয়া ছিল। এ ঘটনায় গ্রামের রঞ্জিত কুমার ও তার ছেলে বিদ্যান চন্দ্র রায়কে আটক করে পুলিশ। নিহত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল শিশুটি।
পুলিশের অবস্থান
প্রতিবেশীর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যায় বিদ্যানকে ভুট্টা ক্ষেত থেকে কোদাল হাতে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। লাশ উদ্ধারের পর স্থানীয়রা বিদ্যানের বাড়িতে হামলা চালায় এবং তাকে পিটিয়ে জখম করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে। কিন্তু জনতা পুলিশকেও আক্রমণ করে।
উদ্ধার অভিযান
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, বিজিবি-১৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম ও একটি বিশেষ পুলিশ দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা প্রথমে আটকা পড়া পুলিশ সদস্যদের উদ্ধারের চেষ্টা করে, কিন্তু তারাও স্থানীয়দের হাতে জিম্মি হন। পরে তিন ঘণ্টার তাণ্ডব শেষে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে।
আহত ও মামলা
পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান জানান, এলাকা ত্যাগ করার সময় আসামিদের নিয়ে যাওয়া পুলিশের গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় আদিতমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিশু হত্যার মামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।



