জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ক্যাম্পাসে সহিংসতার অভিযোগে ১২ জন শিক্ষক এবং একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। দীর্ঘ অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন সিন্ডিকেট সভাপতি ও উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান। সিন্ডিকেট ১৯ শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৪, ১৫ ও ১৭ জুলাই ঘটে যাওয়া ঘটনায় অভিযোগ পর্যালোচনা করে। প্রায় ১২ ঘণ্টা আলোচনার পর সাত শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়।
শাস্তির বিবরণ
উপাচার্য বলেন, ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে পৃথক শুনানি, সাক্ষ্য ও তথ্য যাচাই করা হয়েছে, যাতে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি শাস্তি না পায় এবং কোনো অপরাধী খালাস না পায়।'
- ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবাল কে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
- নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহিবুর রউফ কে প্রভাষক পদে অবনমন করা হয়েছে।
- একই বিভাগের অধ্যাপক এসরাফিল আহমেদ এর বেতন এন্ট্রি লেভেলে নামিয়ে আনা হয়েছে।
- বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার ও হিসাববিজ্ঞানের প্রভাষক কানন কুমার সেন এর দুই বছরের জন্য বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থগিত ও বেতন কমানো হয়েছে।
- সাবেক প্রক্টর ও পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবির এর বেতন বর্তমান পদের শুরুর স্কেলে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং তাকে পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
- সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক বশির আহমেদ ও সহযোগী অধ্যাপক এএসএম ফিরোজ উল হাসান এর বেতন কমানো ও পাঁচ বছরের প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
- জনস্বাস্থ্য বিভাগের অধ্যাপক মো. তাজউদ্দিন সিকদার ও সাবেক প্রো-ভিসি অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ কে একইভাবে বেতন কমানো ও পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে। ফিরোজের বেতন গ্রেড-২ এ নামিয়ে আনা হয়েছে।
- পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এএ মামুন ও ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা কে সতর্ক করা হয়েছে। মামুনকে পাঁচ বছরের জন্য প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
- উপ-রেজিস্ট্রার নাহিদুর রহমান খান কে সহকারী রেজিস্ট্রার পদে অবনমন করা হয়েছে।
এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ক্যাম্পাস হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।



