চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যান ঘাটা এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় যুক্তিতর্ক শুরু করেছে আদালত। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ যুক্তিতর্ক শুরু হয়।
আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ জানান, বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমার আদালতে মঙ্গলবার রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ উভয়ই চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবে। তিনি বলেন, 'আজ আমরা এবং আসামিপক্ষ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করব। উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে যাবে।' তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, মঙ্গলবারের শুনানি শেষে আদালত রায়ের তারিখ ঘোষণা করবে।
সাক্ষ্য গ্রহণ ও আসামির বক্তব্য
গত বুধবার থেকে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং তিন কার্যদিবসে ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার পর রোববার তা শেষ হয়। সোমবার নিজের বক্তব্যে আসামি মনির হোসেন নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। তবে তার পক্ষে কোনো প্রতিরক্ষা সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়নি।
আসামির পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ
আসামি মনির হোসেন (৩২) কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ঘরঘাটা এলাকার বাসিন্দা। চট্টগ্রামে তিনি বাকলিয়া এলাকার মিঁয়া খান নগরে থাকতেন এবং চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় একটি ডেকোরেটরের দোকানে কাজ করতেন। গত ২১ মে বিকেলে অভিযোগ ওঠে যে, মনির ওই শিশুকে ধর্ষণ করেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।
পুলিশের প্রতিবন্ধকতা ও সংঘর্ষ
পুলিশ মনিরকে থানায় নেওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দেয়, তারা নিজেরাই আসামির শাস্তি নিশ্চিত করতে চায়। দুই ঘণ্টা ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর সন্ধ্যায় পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। বারবার সংঘর্ষে বাকলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের একটি বড় ট্রাকও আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ অন্তত ৪০ জন আহত হন।
আইনি প্রক্রিয়া ও চার্জশিট
শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে নেওয়া হয়। শিশুটির বাবা বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ২২ মে মনিরকে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকের আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসেন মো. কবীর ভূঁইয়া বলেন, 'ঘটনার দিন শিশুটির বাবা ঢাকায় এবং মা একটি গার্মেন্টসে কাজ করছিলেন। শিশুটি তার দাদির কাছে ছিল। এই সুযোগে মনির ধর্ষণের চেষ্টা বা ধর্ষণ করে। মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।' দুই সপ্তাহ তদন্তের পর তদন্ত কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ ৪ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। চার্জশিটে মনিরকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (২০০৩ সালে সংশোধিত) এর ৯(১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। মামলায় মোট ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়। ৯ জুন বিচারক সৈয়দা হাফসা মনিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। পরের দিন সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।



