ধামরাইয়ে পুলিশের ওপর হামলা: পর্নোগ্রাফি মামলার আসামি গ্রেফতারে বাধা
ঢাকার ধামরাই উপজেলায় পর্নোগ্রাফি ও নারী নির্যাতন মামলার আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর দুই দফা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এক যুবদল নেতাসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
হামলার ঘটনা ও গ্রেফতার
বুধবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ধামরাই পৌরসভার পাঠানটোলা এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন সৈয়দ ইউসুফ আলী প্রান্ত (৩০) ও নাইম ইসলাম (৪০)। তারা উভয়ই ধামরাইয়ের পাঠানটোলা এলাকার বাসিন্দা। নাইম ইসলাম ধামরাই উপজেলা যুবদলের সদস্য হিসেবে পরিচিত।
হামলার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এতে গ্রেফতার দুজনসহ ১৫-১৬ জনকে আসামি করা হয়। মামলার অপর আসামিরা হলেন আনিকা রায়হান সুচনা (২৯), রায়হান (২৪) ও অজ্ঞাত ১০-১৫ জন। তারা প্রধান আসামি প্রান্তের স্বজন বলে জানা গেছে।
পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়া
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন মো. আইয়ুব আলী, শামীম আল মামুন, মো. কাশেম হোসেন ও আব্দুস সামাদ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে ধামরাই থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলার দুই আসামি সৈয়দ ইউসুফ আলী প্রান্ত ও তার স্ত্রী আনিকা রায়হান সুচনাকে গ্রেফতারে বিকাল ৩টার দিকে অভিযানে যায় পুলিশ।
এ সময় আসামিরা দেশীয় অস্ত্রসহ হুমকি দেয় ও তাদের বাধা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা করে তাদের মাথা, হাত-পায়ে আঘাত করে জখম করে। এতে পুলিশ সদস্য আইয়ুব আলী ও শামীম আল মামুন আহত হন। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় তাদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে।
দ্বিতীয় দফা হামলা ও চিকিৎসা
দ্বিতীয় দফায় হামলায় পুলিশ সদস্য মো. কাশেম হোসেন ও আব্দুস সামাদ আহত হন। একপর্যায়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে থানার দিকে রওনা হলে আসামিদের সহযোগীরা পুলিশের পিকআপের গতিরোধ করে। তারা পুলিশ সদস্য মো. আইয়ুব আলীর পোশাক ছিঁড়ে ফেলে। পরে আহত পুলিশ সদস্যদের ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও মামলা
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ‘এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা, সরকারি কাজে বাধা ও মারধরের অভিযোগে পেনাল কোডের একাধিক ধারায় মামলা করেছে পুলিশ। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।’
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। পুলিশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়ার এই ঘটনাটি নজিরবিহীন বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



