শ্যামলীর কিডনি হাসপাতালে ৫ লাখ টাকা চাঁদা মামলায় তিনজনের তিন দিনের রিমান্ড
শ্যামলী হাসপাতালে চাঁদা মামলায় তিনজনের রিমান্ড

শ্যামলী কিডনি হাসপাতালে চাঁদা মামলায় তিনজনের তিন দিনের রিমান্ড

রাজধানীর শ্যামলী এলাকার সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডিইউ) হাসপাতালে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিনসহ তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার ঢাকার একটি আদালত এই আদেশ দিয়েছে, যা পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের চেয়ে কম সময় নির্ধারণ করেছে।

আদালতের শুনানি ও রিমান্ড আদেশ

ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামশেদ আলম মঙ্গলবার বিকেলে শুনানির পর এই আদেশ দেন। অভিযুক্তরা হলেন মঈন উদ্দিন, এমবি স্বপন কাজি এবং মো. শাওন হোসাইন। এর আগে, তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার উপ-পরিদর্শক মো. সাব্বির আহমেদ আদালতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। তিনি আদালতকে জানান, প্রাথমিক প্রমাণে অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে এবং পলাতক সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদ্ধারের জন্য হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি।

অন্যদিকে, প্রতিবাদী পক্ষ জামিন ও রিমান্ড বাতিলের আবেদন করলে অভিযোগকারী পক্ষ তা প্রত্যাখ্যান করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত প্রত্যেক অভিযুক্তের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এই সিদ্ধান্তে আদালত পুলিশের দীর্ঘ রিমান্ড আবেদনকে সংক্ষিপ্ত করেছেন, যা আইনি প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ

মামলার দলিল অনুযায়ী, সিকেডিইউ হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের ইনচার্জ মো. আবু হানিফ ১১ এপ্রিল শেরেবাংলা নগর থানায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় মঈন উদ্দিনকে প্রধান অভিযুক্ত এবং ৭-৮ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, মঈন ও তার সহযোগীরা কিছুদিন ধরে হাসপাতাল থেকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যখন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়, তখন তারা হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন শুরু করে। ১০ এপ্রিল সকালে তারা শ্যামলীর রোড নম্বর ৩-এ আবেদনকারীর বাসায় গিয়ে আবারও চাঁদা দাবি করে এবং অশোভন আচরণ করে। মামলার বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয় যে, পরে ৫০-৬০ জন লোক হাসপাতালের সামনে জড়ো হয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, স্লোগান দেয় এবং হুমকি দেয়, যা হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটানোর আশঙ্কা তৈরি করে।

পূর্ববর্তী গ্রেপ্তার ও রিমান্ড

এর আগে, ১৩ এপ্রিল মঈন উদ্দিনের চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে আদালতে উপস্থাপন করা হয়, যারা তাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিনে, নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকা থেকে পুলিশ মঈন উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। এই গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের ঘটনা হাসপাতালে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়িয়েছে, যা জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এই মামলাটি শুধু একটি চাঁদাবাজির ঘটনা নয়, বরং এটি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অপরাধমূলক কার্যক্রম ও জননিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। আদালতের রিমান্ড আদেশ এখন তদন্তকে গতিশীল করতে সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে, যাতে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়।