বিচারকদের সংগঠনের জোরালো দাবি: সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ পাস ও সংবিধান সংশোধন
বিচারকদের সংগঠন 'ইয়াং জাজেস ফর জুডিসিয়াল রিফর্ম' সরকারের কাছে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ সংসদে পাস করার পাশাপাশি বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই জোরালো অনুরোধ ব্যক্ত করে, যা বিচারিক সংস্কারের দাবিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দাবির মূল বিষয়বস্তু
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে 'সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫' আইন হিসেবে পাস করতে হবে। একইসাথে, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত অঙ্গীকার এবং জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্য অনুযায়ী বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংবিধানের সংশোধন আবশ্যক।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতার গুরুত্ব
বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার এবং আইনের শাসনের মূল ভিত্তি। সরকারের কাছে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে যে, জনগণের রায়ে দেশ পরিচালনার এই সুযোগে তারা বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিতকল্পে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে এই অধ্যাদেশ জারি করে, যা মহামান্য আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে প্রণীত হয়েছে। ১৯৯৯ সালের সেই যুগান্তকারী রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে কার্যকরভাবে পৃথক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে আংশিক পৃথকীকরণ হলেও অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ কার্যত নির্বাহী বিভাগের হাতেই থেকে যায়। জারিকৃত অধ্যাদেশ সেই অসম্পূর্ণ যাত্রাকে পূর্ণতা দেওয়ার সূচনা করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও জাতীয় ঐকমত্য
বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় যে, রাষ্ট্র সংস্কারে সরকারি দল বিএনপি'র ঘোষিত ৩১ দফার ৯ নং দফায় স্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করা হয়েছে, মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল স্পিরিট ছিল রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। জুলাই জাতীয় সনদে দেশের সকল প্রধান রাজনৈতিক দল স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একমত হয়েছে, যা নির্বাচিত সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব বলে ইয়াং জাজেস ফোরাম মনে করে।
সংগঠনের গঠন ও উদ্দেশ্য
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট বিচার বিভাগে সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) ষষ্ঠ থেকে পঞ্চদশ ব্যাচের সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজ সমমর্যাদার বিচারকদের সমন্বয়ে 'ইয়াং জাজেস ফর জুডিশিয়াল রিফর্ম' নামে এই সংগঠন গঠিত হয়। সংগঠনটি বিচারিক স্বাধীনতা ও সংস্কারের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছে, এবং বর্তমান দাবিগুলো তাদের এই প্রচেষ্টারই ধারাবাহিকতা।
এমতাবস্থায়, ইয়াং জাজেস ফর জুডিসিয়াল রিফর্ম সরকারের কাছে পুনরায় জোর দিয়ে বলছে যে, সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে 'সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫' আইন হিসেবে পাশ করতে হবে এবং রাজনৈতিক দলসমূহের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত অঙ্গীকার এবং জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্য অনুযায়ী বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে। এই পদক্ষেপগুলি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে।



