সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের পাঁচ মামলায় জামিন, তবে মুক্তি নাই নতুন মামলায় গ্রেফতার আবেদন
সাবেক প্রধান বিচারপতির পাঁচ মামলায় জামিন, নতুন মামলায় গ্রেফতার আবেদন

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের পাঁচ মামলায় জামিন, নতুন মামলায় গ্রেফতার আবেদন

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দায়ের করা পাঁচটি মামলাতেই জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। তবে, জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে মাদরাসা ছাত্র হত্যার নতুন একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। ফলে, পাঁচ মামলায় জামিন পেলেও আপাতত তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না।

নতুন মামলায় গ্রেফতার আবেদনের বিস্তারিত

গত ১০ মার্চ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালতে যাত্রাবাড়ী থানার মামলায় খায়রুল হককে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করা হয়। মামলাটির শুনানির জন্য আগামী ৩০ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মহিন উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালত ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে মাদরাসা ছাত্র মো. আরিফ নিহতের মামলায় এই গ্রেফতার আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সকাল ৯টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজারের রোডে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে লর্ড হার্ডিঞ্জং ফাজিল মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের ছাত্র মো. আরিফের চোখে গুলি লাগে। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হাইকোর্টের জামিন প্রদান ও অন্যান্য মামলার পটভূমি

গত ৮ মার্চ হাইকোর্ট জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদল কর্মী হত্যা ছাড়াও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতির চারটি মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতিকে জামিন দেন। বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তার আবেদনের প্রেক্ষিতে জারিকৃত রুল যথাযথ ঘোষণা করে এই রায় দেন।

গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে সাবেক প্রধান বিচারপতিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা দায়ের করা হয়, যার মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতি, প্লট জালিয়াতিতে দুর্নীতি এবং অন্যান্য অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত।

মামলার ক্রমবিকাশ ও বর্তমান অবস্থা

সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোতে নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে জামিনের জন্য আবেদন করেন। হাইকোর্ট পাঁচটি মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন এবং সবশেষ গত ৮ মার্চ সেগুলোতে জামিন মঞ্জুর করেন। তবে, নতুন মামলায় গ্রেফতার আবেদন জারি থাকায় তার মুক্তি আটকে আছে।

এই ঘটনাটি আইন বিভাগ ও বিচার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছে, যেখানে সাবেক প্রধান বিচারপতির মতো উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরাও মামলার সম্মুখীন হচ্ছেন। আগামী ৩০ মার্চের শুনানিতে এই মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে, যা দেশের আইনী পরিমণ্ডলে নজর রাখছে।