চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের প্রস্তুতি, পুলিশের তথ্য সংগ্রহ তৎপরতা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নির্দেশে সারা দেশে চাঁদাবাজ, শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক বিক্রেতাদের একটি বিস্তারিত তালিকা তৈরি করার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। এই তালিকা তৈরির জন্য পাঁচটি প্রধান ক্ষেত্র চিহ্নিত করে তথ্য সংগ্রহ চলছে, যা ভিত্তি করে দ্রুতই ব্যাপক অভিযান শুরু হবে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ও অভিযানের ঘোষণা
সম্প্রতি ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের নির্মোহ তালিকা তৈরি করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। এই সভায় তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে শিগগিরই দেশব্যাপী অভিযানের ঘোষণা দেন, যা রাজধানী থেকে শুরু হবে বলে উল্লেখ করেন।
চাঁদাবাজির পাঁচটি ক্ষেত্র ও তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকা অনুযায়ী চাঁদাবাজদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে তালিকা করা হচ্ছে:
- পরিবহন খাত
- ফুটপাতের ব্যবসা
- এলাকাভিত্তিক বাজার
- অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ
- অটোরিকশা, রিকশা ও টেম্পোস্ট্যান্ড
এই তালিকায় চাঁদাবাজির স্থান, চাঁদার পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য সংযুক্ত করা হবে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, গোয়েন্দা শাখা, বিশেষ শাখা এবং ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনসহ বিভিন্ন ইউনিটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি ও সমন্বিত প্রচেষ্টা
ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ বিভাগের উপকমিশনার মো. তারেক জুবায়ের জানান, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কিছু এলাকার তালিকা জমা পড়েছে। সব বিভাগের তালিকা থেকে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে সমন্বয় করা হবে।
পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকিরও সংবাদ সম্মেলনে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, দলীয় পরিচয় থাকলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং যেকোনো সময় অভিযান শুরু করা হবে।
নতুন পদ্ধতিতে তালিকা ও অভিযানের পরিকল্পনা
পুলিশ কর্মকর্তারা উল্লেখ করেন, এর আগে সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করে তালিকা করা হলেও চাঁদাবাজদের নিয়ে এ ধরনের বিস্তারিত তালিকা নতুন। এবার বিভিন্ন ইউনিট একযোগে কাজ করে আলাদা আলাদা তালিকা তৈরি করছে, যা পরে একত্র করে চূড়ান্ত তালিকা করা হবে। ঢাকা মহানগর পুলিশ থেকেই এই অভিযান শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া, চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তালিকার পাশাপাশি মব সন্ত্রাসে জড়িত ব্যক্তিদেরও তালিকা করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশব্যাপী চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখার আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
