রাজউক প্লট মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক জামিন পেলেন
বিধিবহির্ভূতভাবে রাজউকের প্লট গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১১ মার্চ) বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। খায়রুল হকের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এই জামিনের ফলে তার কারামুক্তিতে এখন আর কোনো বাধা নেই।
আদালতে শুনানি ও আইনজীবীদের উপস্থিতি
আদালতে সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু এবং ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। তাদের যৌথ প্রচেষ্টায় হাইকোর্ট জামিন মঞ্জুর করে, যা খায়রুল হকের আইনি লড়াইয়ে একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলার পটভূমি ও অন্যান্য আসামি
২০২৫ সালের আগস্ট মাসে বিধিবহির্ভূতভাবে রাজউকের প্লট গ্রহণের অভিযোগে এবিএম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে দুদক এই মামলা দায়ের করে। মামলায় খায়রুল হক ছাড়াও আরও সাতজনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুল হুদা, সাবেক সদস্য (অর্থ) ও সদস্য (এস্টেট) আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, সাবেক সদস্য (অর্থ) মো. আবু বক্কার সিকদার, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, সাবেক সদস্য (এস্টেট) আখতার হোসেন ভুইয়া, সাবেক যুগ্মসচিব ও সদস্য (উন্নয়ন) এম মাহবুবুল আলম এবং সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) নাজমুল হাই।
খায়রুল হকের অন্যান্য মামলা ও গ্রেফতার
গত ৪ মার্চ জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতির চারটি মামলায়ও সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে জামিন দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। সেই রায় দেন বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের বেঞ্চ। ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
খায়রুল হকের বিরুদ্ধে এই মামলা ছাড়াও আরও চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীনের মামলা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, গত ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভুঁইয়া। একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা নামে এক ব্যক্তি। এর আগে ৪ আগস্ট প্লট জালিয়াতিতে দুর্নীতির অভিযোগে দুদকও একটি মামলা করে, যা বর্তমান মামলার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।
এই জামিন আদেশ সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের আইনি পরিস্থিতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও অন্যান্য মামলাগুলো এখনও বিচারাধীন রয়েছে। আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, জামিন পাওয়ায় খায়রুল হক এখন আইনি প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে সক্ষম হবেন।
