গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা-বাবা আহত, ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুই মাস কারাদণ্ড
মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা-বাবা আহত, দুই মাস কারাদণ্ড

গাজীপুরের শ্রীপুরে মাদকাসক্ত ছেলের হাতে মা-বাবা আহত, ভ্রাম্যমাণ আদালতের দুই মাস কারাদণ্ড

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় মাদকের টাকার জন্য নিজের মা-বাবাকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগে এক যুবককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে শ্রীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুল ইসলাম এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

ঘটনার বিবরণ

দণ্ডপ্রাপ্ত রাসেল সরদার (২৫) উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামের মাসুম সরদারের ছেলে। এলাকায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। মাদকের টাকার জন্য প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঝগড়া করতেন বলে স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে।

গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে রাসেল তাঁর মা-বাবার কাছে মাদকের জন্য টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর থেকে ধারালো দা নিয়ে এসে মা-বাবাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। এতে তাঁর বাবা ও মা উভয়েই আহত হন। ঘটনার পর শ্রীপুর থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

আদালতের রায় ও পুলিশের পদক্ষেপ

অভিযুক্ত রাসেলকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির করে পুলিশ। সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুল ইসলাম। তিনি জানান, আইন অনুযায়ী ওই যুবককে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে রাসেলের বাবা মাসুম সরদার বলেন, "যখন-তখন তাঁর কাছে টাকা চেয়ে বসে ছেলে। টাকা না দিলে তাঁকে ও মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। সোমবার ছেলে তাঁদের ওপর চড়াও হয়। বাধ্য হয়ে ছেলের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁদের আর কোনো উপায় ছিল না।"

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রেক্ষাপট

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাসেল দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত বিরোধে জড়িত থাকতেন। এই ঘটনা এলাকায় মাদকের ভয়াবহ প্রভাব ও পারিবারিক সহিংসতার চিত্র তুলে ধরেছে। পুলিশ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে, যা আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় এই ধরনের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বাড়ছে বলে স্থানীয়রা অভিমত ব্যক্ত করেন। মাদক নিয়ন্ত্রণ ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে।