নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরীর বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের অভিযোগ ও প্রশাসনিক সংকট
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সচিব নূরুন্নাহারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরীর বিরুদ্ধে কর্মকর্তাদের তীব্র অভিযোগ

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পদোন্নতি পাওয়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরীর বিরুদ্ধে দাফতরিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, তার নেতৃত্বে দফতরে স্বেচ্ছাচারিতা, অসদাচরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের একটি সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যা সরাসরি নীতিনির্ধারণী ও দৈনন্দিন প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

কর্মকর্তাদের অভিযোগ ও প্রশাসনিক স্থবিরতা

অভিযোগকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, যারা নাম প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক, দাবি করেছেন যে দফতরের কাজে কোনো ভুলত্রুটি বা মতভিন্নতার ক্ষেত্রেও কঠোর আচরণ, বদলি এবং চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ফাইল নিষ্পত্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অযথা বিলম্ব হচ্ছে, যা মন্ত্রণালয়ের সামগ্রিক কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি করছে এবং দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।

পদোন্নতি নিয়ে উত্থাপিত প্রশ্ন ও রাজনৈতিক প্রভাব

নূরুন্নাহার চৌধুরীর পদোন্নতি নিয়েও কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলেছেন। দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার কারণে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১৭তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোস্তফা কামালের স্থলাভিষিক্ত হন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, তবুও অভিযোগ রয়েছে যে সাবেক উপদেষ্টা ফয়জুল কবীর এবং আলী ইমাম মজুমদারের হস্তক্ষেপে তিনি সচিব পদে উন্নীত হন। একই সময়ে তার স্বামী জিয়াউল হকও সচিব পদে পদোন্নতি পান এবং পৃথক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পান, যা নিয়ে আরও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ

প্রশাসনের একটি অংশ দাবি করছে যে সচিব পদে পদোন্নতি ও পদায়ন সরকারি বিধি-বিধান মেনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং রাজনৈতিক বিবেচনার অভিযোগ প্রায়ই ওঠে, যা সবসময় সত্য নাও হতে পারে। তবে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, মন্ত্রণালয়ের ভেতরে চলমান এ অসন্তোষ নিরসনে কার্যকর তদন্ত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা অত্যন্ত প্রয়োজন। অন্যথায়, প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা আরও প্রকট হতে পারে এবং সরকারি কাজে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হতে পারে।

সচিবের প্রতিক্রিয়া ও যোগাযোগের চেষ্টা

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরীকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তার মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে এই নীরবতা সমস্যাগুলোকে আরও গভীর করতে পারে এবং দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।