বাঁশখালীতে অবৈধ মাটি কাটার তথ্য ফাঁসের দায়ে তিনজনের কারাদণ্ড
অবৈধ মাটি কাটার তথ্য ফাঁসে তিনজনের কারাদণ্ড

বাঁশখালীতে অবৈধ মাটি কাটার তথ্য ফাঁসের দায়ে তিনজনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় অবৈধভাবে পাহাড়ি জমির মাটি কাটার তথ্য ফাঁসের দায়ে তিনজনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত কারাদণ্ড দিয়েছে। গতকাল রোববার রাতে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানি পরিচালিত অভিযানে এই সাজা দেওয়া হয়।

তথ্য ফাঁসের কৌশল ও অভিযানের ব্যর্থতা

অভিযুক্তরা বেশ কিছু দিন ধরে অবৈধ মাটি কাটার সময় দূরে অবস্থান নিতেন এবং প্রশাসনের কাউকে অভিযানে আসতে দেখলেই মুঠোফোনে তাৎক্ষণিক খবর দিতেন মাটি ব্যবসায়ীদের। এতে আগেভাগেই সরে পড়তেন মাটি কাটায় জড়িত ব্যক্তিরা, ফলে বারবার ভেস্তে যেত প্রশাসনের অভিযান।

বিষয়টি আঁচ করতে পেরে এবার উপজেলার জাইল্লাঘাটা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তথ্যদাতাদেরই আটক করা হয়। অভিযুক্তরা হলেন—মো. রিদুয়ান (২৯), নুরুল আলম (৪৫) ও মো. ইব্রাহিম (৪৫)।

কারাদণ্ডের মেয়াদ ও স্বীকারোক্তি

ভ্রাম্যমাণ আদালত মো. রিদুয়ানকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং নুরুল আলম ও মো. ইব্রাহিমকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, তিনজনই তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ স্বীকার করেছেন এবং ফোনকল রেকর্ডে তথ্য পাচারের সত্যতা মিলেছে।

তাঁরা অভিযানের খবর পৌঁছে দিয়ে মাটি বিক্রির টাকার লভ্যাংশের একটি ভাগ পেতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানি অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জনস্বার্থে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে কঠোর নজরদারি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই ঘটনা বাঁশখালীতে পরিবেশগত ক্ষতি রোধ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসনের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।