রাজশাহীতে হত্যা মামলার আসামি মাসুম বিল্লাহর অপহরণ, ২০ দিন ধরে নিখোঁজ
রাজশাহীতে হত্যা মামলার আসামি মাসুম বিল্লাহর অপহরণ

রাজশাহীতে হত্যা মামলার আসামি মাসুম বিল্লাহর অপহরণ, ২০ দিন ধরে নিখোঁজ

রাজশাহী নগরের ডিঙ্গাডোবা পাঠার মোড় এলাকার বাসিন্দা মাসুম বিল্লাহ (২৭) গত ৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর বাড়ি ফেরেননি। ২০ দিন ধরে তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তাঁর পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। তাঁরা ধারণা করছেন, মামলার বাদীপক্ষ বা অন্য কেউ তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে।

অভিযোগ ও পুলিশের তদন্ত

মাসুম বিল্লাহর মা রাবেয়া বেগম গত ১১ ফেব্রুয়ারি নগরের রাজপাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, মাসুম একজন ছাত্র এবং ২০২২ সালের একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। মামলার ভিকটিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এবং মামলাটি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর মাসুম গোদাগাড়ীর রাজাবাড়ী ভূমি অফিসে যাবেন বলে পরিবারকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই দিন থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। রাতে তাঁর মা মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে নম্বরটি বন্ধ পান। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মামলার বাদীপক্ষ এর আগে মাসুমকে বিভিন্ন ভয়ভীতি ও তুলে নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল।

পরিবারের উদ্বেগ ও সন্দেহ

মাসুম বিল্লাহর বোন জিয়াসমিন খাতুন বলেন, ‘মামলার বাদীপক্ষ এর আগেও নানা রকম হুমকি দিয়েছিল। কিন্তু আমরা সেসব গুরুত্ব না দিয়ে মামলাটি স্থানীয়ভাবেই আপস করার চেষ্টা করছিলাম। আলোচনাও চলছিল। এর মধ্যেই হাজিরার দিনে আমার ভাই নিখোঁজ হয়েছে। এখন পর্যন্ত তার খোঁজ পাচ্ছি না। আমরা খুব উদ্বেগের মধ্যে আছি। আমাদের ধারণা, বাদীপক্ষ বা অন্য কেউ আমার ভাইকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। আমরা তার সন্ধান চাই।’

মামলার পটভূমি

২০২২ সালে গোদাগাড়ীর তেরোপাড়া গ্রামে ছাগল জমির ফসল খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারিতে মামুন-অর-রশিদ নামের এক যুবক আহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয় এবং মাসুম বিল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়।

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি

রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল মালেক বলেন, ‘অভিযোগটা আমরা তদন্ত করছি। এখনো মাসুম বিল্লাহর খোঁজ পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণ করা হবে। এ জন্য আবেদন করা হয়েছে। এটা পাওয়া গেলে পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছুটা বোঝা যেতে পারে। আমরা সব দিক থেকেই বিষয়টির তদন্ত করছি।’

নিহত মামুন-অর-রশিদের ভাই সুমন আলীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তাই অভিযোগের বিষয়ে তাঁদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।