নরসিংদীতে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামিপক্ষে আইনজীবী দাঁড়াননি, আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন
নরসিংদীর মাধবদীতে এক কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (২য়) আদালতের বিচারক মো. মেহেদী হাসান প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ ৭ জনের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এই ঘটনায় নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, তারা আসামিপক্ষকে আইনি সহায়তা দেবে না, বরং রাষ্ট্রপক্ষকে সার্বিক সহায়তা করবে।
আইনজীবী সমিতির ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত
নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান ভুইয়া বলেন, "সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ মামলায় কোনো আইনজীবী আসামিপক্ষকে আইনি সহায়তা দেবে না, রাষ্ট্রপক্ষকে সার্বিক সহায়তা করা হবে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন, "পুলিশ আন্তরিক হয়ে মামলাটির দ্রুত চার্জশিট দিলে ৬ মাসের মধ্যে মামলাটি শেষ করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী। এ মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।" এই সিদ্ধান্ত সমাজে ন্যায়বিচারের প্রতি আইনজীবী সম্প্রদায়ের দৃঢ় অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।
আদালতের রিমান্ড আদেশ ও তদন্তের অগ্রগতি
আদালত সূত্রে জানা যায়, নূরাসহ গ্রেফতার ৭ আসামির জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ১০ দিন করে রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাধবদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ওমর কাইয়ুম বলেন, "মামলার এজাহারের প্রেক্ষিতে ধর্ষণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ জন এবং ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য সালিশ বৈঠকের বিচারক ও সহায়তাকারী সাবেক মেম্বারসহ ৩ জনকে ৭ গ্রেফতারের পর ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়। আদালত ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।" তিনি আরও জানান, পলাতক দুই আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ঘটনার পটভূমি ও মামলা দায়ের
উল্লেখ্য, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নরসিংদীর মাধবদীতে নূর মোহাম্মদ নূরা ও তার সঙ্গীরা বাবাকে ছুরি হাতে জিম্মি করে কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ সরিষাখেতে ফেলে রাখে। এই নির্মম ঘটনায় নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে প্রধান করে ৯ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা দায়ের করেন নিহতের মা। এই মামলাটি স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং দ্রুত বিচারের দাবি উঠেছে।
এই ঘটনাটি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও বিচার বিভাগের কাছে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। নরসিংদী জেলা আইনজীবী সমিতির সিদ্ধান্ত সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আশা করা যায়, তদন্ত দ্রুত শেষ হয়ে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হবে, যা ভবিষ্যতে এমন অপরাধ রোধে ভূমিকা রাখবে।
