বরিশালে মাছ ঘের মালিকের কর্মচারী নির্যাতন: জামিনে মুক্তির পর পুনরায় গ্রেপ্তার
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় মাদক সম্পৃক্ততার অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীকে নির্যাতনের অভিযোগে শেখর বসু নামে এক মাছ ঘেরের মালিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। রোববার (১ মার্চ) সকালে গ্রেপ্তারকৃতকে বরিশাল আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
শুক্রবার ভুক্তভোগী কর্মচারী নারায়ন হালদার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর শনিবার অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। নারায়ন হালদার তার মামলায় অভিযোগে বলেন, ঘের মালিক শেখর বসুকে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) গ্রেপ্তার করে।
নারায়ন হালদার আরও উল্লেখ করেন, শেখর বসু জেল ছাড়া পেয়ে আমাকে সন্দেহ করে তার ঘের পাড়ের ঘরে আটক করে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করে মাথার চুল কেটে দেয়। মারধরে আমি অসুস্থ হয়ে পানি খেতে চাইলে ঘের মালিক শেখর আমার মুখে প্রসাব করে দেয়। পরে তার মায়ের কথায় আমাকে ছেড়ে দেয়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় এখনও আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থেকে মামলা দায়ের করেছি।
পুলিশ ও আদালতের পদক্ষেপ
আগৈলঝাড়া থানার ওসি সুশংকর মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, কর্মচারীকে পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলা শেখর বসুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে সোপর্দের পর কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পুরো ঘটনা তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ৯ ফেব্রুয়ারি শেখর বসুকে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। শেখর বসু ১২ দিন হাজতবাসের পর গত ২২ ফেব্রুয়ারি জামিনে মুক্তি পান।
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, এবং পুলিশ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ভুক্তভোগীর স্বাস্থ্য অবস্থা এখনও গুরুতর বলে জানা গেছে, এবং চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
