তিন বছর পর হবিগঞ্জে মুহিবুর রহমান হত্যার রহস্য উদঘাটন, মূল আসামি গ্রেফতার
হবিগঞ্জে তিন বছর পর হত্যার রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেফতার

হবিগঞ্জে তিন বছর পর হত্যার রহস্য উদঘাটন: পিবিআই-এর সাফল্য

হবিগঞ্জে মুহিবুর রহমান (২৫) হত্যার প্রায় তিন বছর পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হয়েছে। মামলার মূল আসামি ফজল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যিনি পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় হত্যার দায় স্বীকার করেছেন। রবিবার (১ মার্চ) দুপুরে হবিগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার হায়াতুন-নবী এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রহস্য উন্মোচন

পুলিশ সুপার হায়াতুন-নবী বলেন, দীর্ঘদিন ক্লুলেস হিসেবে বিবেচিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে। মূল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে হত্যার বিবরণসহ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পিবিআই জানায়, ২০২৩ সালের ২৭ জুন শিয়ালদাড়িয়া গ্রামের একটি ডোবায় মুহিবুর রহমানের লাশ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আতর আলী সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন, কিন্তু ঘটনার দীর্ঘসময় পরও কোনও অগ্রগতি ছিল না।

গ্রেফতার ও তদন্তের বিস্তারিত

নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করলে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার আব্দুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মামলার মূল আসামি ফজল মিয়াকে। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ফজল মিয়া হত্যার নেপথ্যের কারণ ও পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেয়। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল্লাহর আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

হত্যার পেছনের কারণ ও ঘটনা

আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ফজল মিয়া জানান, বাবা সঞ্জব আলীর মৃত্যুর কয়েকদিন পর শিন্নি অনুষ্ঠানে নিহতের বাবা আতর আলী প্রকাশ্যে তাকে অপমান করেন। পরে প্রতিবেশী মস্তুল মিয়ার সঙ্গে ১৫০০ টাকা পাওনাকে কেন্দ্র করে গ্রামে সালিশ বসে। সেখানে আতর আলী মস্তুলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ফজল মিয়াকে ৩০০০ টাকা জরিমানা করেন এবং মস্তুলের পায়ে ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে সে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

আরও জানান, এর জেরে ২০২৩ সালের ২৬ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফজল মিয়া টিউবওয়েলের লোহার রড দিয়ে মুহিবুর রহমানকে আঘাত করে হত্যা করে এবং পরে লাশ চান মিয়ার ডোবায় ফেলে পালিয়ে যায়।

তদন্তের অগ্রগতি ও পরিবারের প্রতিক্রিয়া

পিবিআই জানায়, অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামালের নির্দেশনায় এবং হবিগঞ্জ ইউনিটের ইনচার্জ পুলিশ সুপার হায়াতুন-নবীর তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত পরিচালনা করেন এসআই পিযুষ কান্তি দেবনাথ। তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং দ্রুত চার্জশিট দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘ তিন বছর পর মামলায় অগ্রগতি ও রহস্য উদঘাটনে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত মুহিবুর রহমানের পরিবার।