নেত্রকোনায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড
নেত্রকোনায় স্ত্রী হত্যায় স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নেত্রকোনায় স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

নেত্রকোনায় স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে মো. আবু বক্কর (৬২) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ মোছা. মরিয়ম মুন মুঞ্জরীর আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসলি আবুল হাসেম জানিয়েছেন, রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

অভিযুক্ত ও নিহতের পরিচয়

আবু বক্কর কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার মোলামখার চর এলাকার মৃত জাফর আলীর ছেলে। তার স্ত্রী রেজিয়া খাতুন (৩৮) মোহনগঞ্জ উপজেলার বাসুন্তিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, আবু বক্কর ও রেজিয়া উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। বিয়ের পর থেকে আবু বক্কর রেজিয়ার বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত, যা শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়।

হত্যার ঘটনা ও তদন্ত

২০১৪ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে পারিবারিক কলহের জেরে আবু বক্কর রেজিয়াকে তার পরনের শার্ট দিয়ে গলা প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি লাশটি ঘরের পাশে থাকা একটি খড়ের গাদায় লুকিয়ে রেখে তার প্রথম স্ত্রীর ছেলেকে ফোন করে বিষয়টি জানান। পরদিন পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। ঘটনার পরদিন নিহতের বোন বিউটি আক্তার বাদী হয়ে আবু বক্করকে আসামি করে মোহনগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় মোট ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়, যা আদালতের রায়ের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

আদালতের রায় ও আইনজীবীদের ভূমিকা

আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আবু বক্করের বিরুদ্ধে হত্যার দায় প্রমাণিত দেখে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে মো. নজরুল ইসলাম খান দায়িত্ব পালন করেন। এই রায় নেত্রকোনা অঞ্চলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে শক্তিশালী বার্তা প্রদান করে।