বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের আদালত বর্জন: বরিশালে বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ
বরিশালে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের আদালত বর্জন ও প্রতিবাদ

বরিশালে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের আদালত বর্জন: সভাপতি লিংকনের গ্রেফতার প্রতিবাদে উত্তাল পরিবেশ

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনের গ্রেফতারের প্রতিবাদ এবং তার মুক্তির দাবিতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালতের সব কার্যক্রম বর্জন করেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে তারা সভাপতি লিংকনের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেন।

আদালত কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ

এই সময়ে আইনজীবীরা আদালতের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখেন, যা বিচারপ্রার্থীদের জন্য ব্যাপক দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে। আদালতের আইনজীবী ভবন তালাবদ্ধ রাখা হয়েছে, ওকালতনামা বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে এবং আইনজীবী সহকারীরাও (মুহরি) হাজিরা দিতে অস্বীকার করেছেন। আন্দোলনরত আইনজীবীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত মামলা প্রত্যাহার ও সভাপতির মুক্তি না দেওয়া হবে, ততক্ষণ তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

বিচারপ্রার্থীদের উপর প্রভাব

বরিশালের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা আইনজীবীদের এই কর্মসূচিতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা জানান, আদালতে বিভিন্ন মামলায় হাজিরাসহ নানা জরুরি কাজে তাদের আসতে হয়েছে, কিন্তু আন্দোলনের কারণে তারা কোনো কাজই সম্পন্ন করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে আদালতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।

পটভূমি ও পূর্ববর্তী ঘটনা

এই আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটেছে মঙ্গলবার, যখন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুসের জামিন মঞ্জুরকে কেন্দ্র করে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা আদালত বর্জন করেন। ওইদিন দুপুরে আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে এজলাসে হট্টগোল সৃষ্টি হয়।

এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বুধবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজিব মজুমদার আদালত কক্ষে ভাঙচুর ও বিচার কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। একই দিন বেলা ১২টায় বরিশাল আইনজীবী সমিতির অ্যানেক্স ভবন থেকে সভাপতি লিংকনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের পর আইনজীবীরা তার জামিনের জন্য আবেদন করলে মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক জামিন আবেদন না-মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের পরপরই আইনজীবীরা সব আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন, যা বর্তমান আন্দোলনের দিকে নিয়ে যায়।

আন্দোলনরত আইনজীবীদের দাবির সঙ্গে আদালতের আইনজীবী সহকারীরাও সমর্থন জানিয়েছেন বলে তারা দাবি করেছেন। এই পরিস্থিতি বরিশালের আইনী পরিবেশে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলছে।