কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহায়ক পদের নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মৌখিক পরীক্ষার সময় এ ঘটনা ধরা পড়ে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিচয়
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন হোসেনপুর উপজেলার নিজাম উদ্দিন ও মো. সাব্বির, পাকুন্দিয়ার মো. পিয়াস ও মেহেদী হাসান, মিঠামইনের শফিকুল ইসলাম, ইটনার নজরুল ইসলাম, তাড়াইলের জসিম উদ্দিন, ফয়সাল মিয়া এবং কিশোরগঞ্জ সদরের রাহিমা আক্তার। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০ ফেব্রুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিস্তারিত
রাজস্ব প্রশাসনের অধীনে ২০তম গ্রেডের অফিস সহায়ক ৫৫টি, নিরাপত্তাপ্রহরী ৩টি এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী ১টিসহ মোট ৫৯টি শূন্য পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। গত রোববার লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছিল। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং নিয়োগ নির্বাচন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান গণমাধ্যমকে বলেন, উত্তীর্ণ প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ মৌখিক পরীক্ষায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
জালিয়াতি ধরা পড়ার ঘটনা
আজ মৌখিক পরীক্ষার সময় সন্দেহ হলে পরীক্ষার্থীদের লিখিত খাতার হাতের লেখার সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে লিখিয়ে নেওয়া লেখার মিল পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের বক্তব্যেও অসংগতি ধরা পড়ে। একপর্যায়ে তারা প্রক্সির মাধ্যমে অফিস সহায়ক পদের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে প্রত্যেককে ১৫ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকগণ
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সূফি সাজ্জাদ আল ফোজায়েল, রাহুল ঘোষ, আমিন অর রশিদ, মশিউর রহমান ও রিয়াদ হোসেন। এই ঘটনা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে।



