টিএফআই সেল গুম মামলায় সাক্ষী অনুপস্থিত, শুনানি পেছালো
টিএফআই সেল গুম মামলায় সাক্ষী না আসায় শুনানি পেছালো

টিএফআই সেল গুম মামলায় সাক্ষী অনুপস্থিতি, শুনানি স্থগিত

টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজ বৃহস্পতিবার সাক্ষী জেরার দিন ধার্য থাকলেও সাক্ষী না আসায় শুনানি পিছিয়েছে। প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, আগামী ৮ মার্চ এ মামলায় পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

সাক্ষী জেরা বাতিলের কারণ

এই মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে ২১ জানুয়ারি জবানবন্দি দেন মীর আহমাদ বিন কাসেম। আজ তাঁকে জেরা করার দিন ধার্য ছিল, কিন্তু তিনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। মীর আহমাদ বিন কাসেম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাঁর পিতা মীর কাসেম আলী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন এবং একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।

আসামিদের অবস্থান ও ট্রাইব্যুনালের গঠন

এই মামলায় মোট ১৭ জন আসামি রয়েছেন, যাদের মধ্যে ১০ জন ঢাকা সেনানিবাসের সাবজেলে আটক আছেন। আজ তাঁদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির করা হয়। আসামিদের তালিকায় রয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান প্রমুখ। অপরদিকে, সাত জন আসামি পলাতক রয়েছেন, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, এবং র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার বিচার চলছে, যা বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ পরিচালনা করছে। বেঞ্চের অন্যান্য সদস্যরা হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

মামলার পটভূমি ও গুরুত্ব

এই মামলাটি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে র‍্যাবের টিএফআই সেলে গুম করে রাখার ঘটনায় দায়ের করা হয়, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলাটি বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত, বিশেষ করে গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে। আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন সাক্ষী জেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, যা আজকের অনুপস্থিতির কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে যারা আটক আছেন, তাঁদের আইনি প্রতিনিধিত্ব এবং পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। এই মামলার ফলাফল বাংলাদেশের মানবাধিকার ও বিচারিক ইতিহাসে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।