বরিশালে আদালতে হট্টগোলের ঘটনায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি কারাগারে প্রেরণ
বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমানকে আদালত প্রাঙ্গণে হট্টগোল ও ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে আদালত চত্বর থেকে তাঁকে আটক করে কোতোয়ালি থানায় দ্রুত বিচার আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এস এম শরীয়তউল্লাহ তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ ও অভিযোগ
বরিশাল মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সাদিকুর রহমানসহ কয়েকজন আইনজীবীর বিরুদ্ধে এজলাস ভাঙচুর, আদালত অবমাননাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হয়েছে। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রাজীব মজুমদার বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।
আদালত ও পুলিশ সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হট্টগোল, বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও ভাঙচুর এবং বিচারককে অপমান করার ঘটনায় আজ দুপুরে কোতোয়ালি মডেল থানায় শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২ এবং দণ্ডবিধির ১৮৬, ১৮৯, ১৯০, ২২৮ ও ৩৫৩ ধারায় একটি মামলা করা হয়। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমানকে প্রধান আসামি ও সাধারণ সম্পাদক মীর্জা রিয়াজুল ইসলামকে ২ নম্বর আসামি করে মামলায় ১২ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আটজনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের সবাই বিএনপিপন্থী আইনজীবী।
ঘটনার পটভূমি ও ভিডিও প্রমাণ
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার দিন আসামিরা এজলাসে ঢুকে ভাঙচুর, সরকারি নথি, মালামাল নষ্টসহ আদালত এলাকায় শক্তির মহড়া ও ত্রাস সৃষ্টি করেন। একই সঙ্গে বিচারপ্রার্থীদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি, বিচারককে অপমান, কাজে বাধাদান, আইনগত সহায়তা না করার হুমকি ও আক্রমণ করার অপরাধ সংগঠিত করেন।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাদের জামিন দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল বেলা পৌনে তিনটার দিকে বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের এজলাসে ঢুকে হট্টগোল করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ কয়েকজন আইনজীবী। তাঁরা এজলাসে ঢুকে বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও চিৎকার করার পাশাপাশি কাগজপত্র তছনছ করেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ একটি মামলার শুনানি করছিলেন। আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) ও আদালত পুলিশের তিন কনস্টেবলের উপস্থিতিতে শুনানি করছিলেন দুজন আইনজীবী। এর মধ্যে দরজা খুলে চিৎকার করতে করতে এজলাসকক্ষে ঢোকেন আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান। তাঁর পেছনে ঢোকেন আরও কয়েকজন আইনজীবী। তাঁরা এজলাসে বসার বেঞ্চগুলো হাত-পা দিয়ে ধাক্কা দিতে দিতে কাগজপত্র ছুড়তে থাকেন। সাদিকুর রহমান বিচারকের সামনে গিয়ে চিৎকার করে আঙুল তুলে কথা বলেন। তিনি বিচারকের সামনে থাকা একটি বেঞ্চে আঘাত করেন এবং বিচারকের উদ্দেশে কিছু বলতে থাকেন। পরে তাঁরা এজলাসকক্ষ ত্যাগ করেন।
পূর্ববর্তী ঘটনা ও বিক্ষোভ
সোমবার দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিন পান। অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহ তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এ ঘটনার প্রতিবাদে চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের কার্যক্রম বর্জন করেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। তাঁরা চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের তিন নেতা জামিনে মুক্তি পান। জামিন পাওয়া অন্য দুজন হলেন বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এবং বরিশাল মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান।
