সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল হেয়ার রোডের সরকারি বাসভবন ছাড়ছেন
আসিফ নজরুল সরকারি বাসভবন ছাড়ছেন

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপটে রাজধানীর হেয়ার রোডে অবস্থিত সরকারি বাসভবন ছেড়ে দিচ্ছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই তিনি সপরিবারে এই বাসা থেকে চলে যাবেন, যা তার সরকারি দায়িত্বের সমাপ্তির একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

ফেসবুক পোস্টে আবেগ ও স্মৃতিচারণ

ফেসবুক পোস্টে ড. আসিফ নজরুল সরকারি এই বাসভবনের প্রতি তার গভীর মায়া ও স্নেহের কথা তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা যখন হেয়ার রোডের এই বাসায় উঠি, সবার মন খারাপ হয়ে যায়। এটি একটি বিশাল জায়গা, একটি বৃহৎ বাড়ি, যা এতটাই বড় যে আপন ভাবা যায় না ঠিকভাবে।’ তার বর্ণনায় উঠে এসেছে যে এই বাসায় উঠার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুলার রোডের বন্ধুদের থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কায় তার সন্তানদেরও মন খারাপ হয়েছিল, যা পারিবারিক জীবনের একটি স্পর্শকাতর দিক ফুটিয়ে তুলেছে।

বাসভবনের প্রতি মায়া ও প্রকৃতির সৌন্দর্য

বাসাটি ছেড়ে দেওয়ার মুহূর্তে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমার মায়া রোগ আছে। এখন দেখি এই বাসাটার জন্যই অনেক মায়া লাগছে। বিশেষ করে ঝোপঝাড়, রোদ-ছায়া, চিলের ডানা আর বিশাল আকাশটার জন্য।’ তার কথায় ফুটে উঠেছে প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকার এক নিবিড় সম্পর্ক, যা এই আবাসস্থলকে কেবল একটি বাড়ি নয়, একটি স্মৃতিবিজড়িত স্থানে পরিণত করেছে। পোস্টের শেষে তিনি ‘বিদায় হেয়ার রোড’ বলে সংক্ষিপ্ত বিদায় জানান, যা তার আবেগের চূড়ান্ত প্রকাশ হিসেবে কাজ করছে।

ড. আসিফ নজরুলের সরকারি দায়িত্বের ইতিহাস

উল্লেখ্য, ড. আসিফ নজরুল অন্তর্বর্তী সরকারে আইন উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগের পর তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও সামলেছেন, যা তার বহুমুখী প্রশাসনিক ভূমিকার স্বাক্ষর বহন করে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ধারাবাহিকতায় এখন তিনি তার সরকারি আবাসস্থল ত্যাগ করছেন, যা রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ঘটনা শুধু একজন সরকারি কর্মকর্তার আবাস পরিবর্তন নয়, বরং এটি সরকারি দায়িত্বের সমাপ্তি ও ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তনের একটি মর্মস্পর্শী দিক তুলে ধরে। ড. আসিফ নজরুলের ফেসবুক পোস্টটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে, যেখানে ব্যবহারকারীরা তার আবেগ ও সততার জন্য প্রশংসা জানাচ্ছেন।