শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা আবার পিছাল
ফেসবুক থেকে নেওয়াইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় করা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবার পিছিয়েছে। আদালত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নতুন তারিখ ধার্য করেছেন, যা এই মামলায় সপ্তমবারের মতো বিলম্বের ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আদালতের নতুন তারিখ নির্ধারণ
আজ বৃহস্পতিবার মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পূর্বনির্ধারিত দিন ছিল। তবে এদিন মামলার তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হয়। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন করে ২৬ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধার্য করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, "এটি মামলার অধিকতর প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ সাতবার পেছানোর ঘটনা।" এই বিলম্ব মামলার তদন্ত প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার পটভূমি ও মামলার বিবরণ
শরিফ ওসমান বিন হাদি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় তাঁকে গুলি করা হয়।
ঘটনার পর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। মামলাটির তদন্তে পুলিশের সিআইডি দায়িত্ব পালন করছে, কিন্তু প্রতিবেদন জমা দিতে বারবার বিলম্বের ঘটনা ঘটছে।
তদন্ত প্রক্রিয়ার বিলম্বের প্রভাব
এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে সপ্তমবারের মতো বিলম্ব হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়ায় নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তদন্তে বিলম্ব ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এবং পরিবার ও সংশ্লিষ্টদের জন্য মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলছে।
আদালতের নতুন তারিখ নির্ধারণের পর এখন অপেক্ষা করা হচ্ছে ২৬ ফেব্রুয়ারির জন্য, যেদিন সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এই বিলম্বের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, যা তদন্ত প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
