সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের হাড় ভেঙে যাওয়া বা কোমরের হাড় সরে যাওয়ার দাবি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও তার এমআরআই রিপোর্টে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার (১২ মে) গত ২৯ এপ্রিল রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে করা এমআরআই রিপোর্ট হাতে এসেছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, তার মেরুদণ্ডের হাড়গুলো স্বাভাবিক অবস্থায় রয়েছে এবং কোথাও হাড় ভাঙা বা সরে যাওয়ার উল্লেখ নেই।
ডিস্কজনিত সমস্যা ধরা পড়েছে
তবে রিপোর্টে কোমর ও ঘাড়ের কিছু ডিস্কজনিত সমস্যা ধরা পড়েছে। চিকিৎসকদের ভাষায়, ডিস্ক হলো মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝখানের নরম অংশ। বয়স, চাপ বা দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার কারণে এই ডিস্ক ফুলে উঠতে পারে। পলকের ক্ষেত্রে কোমরের L2-L3 ও L3-L4 অংশে এবং ঘাড়ের C5-C6 ও C6-C7 অংশে ডিস্ক বাল্জ পাওয়া গেছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, এসব ডিস্ক কিছুটা চাপ তৈরি করলেও স্নায়ুর বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি। স্পাইনাল কর্ডেও কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।
হৃদযন্ত্র স্বাভাবিক
এছাড়া তার হার্টের পরীক্ষার রিপোর্টেও বড় ধরনের কোনো সমস্যা ধরা পড়েনি। ইকোকার্ডিওগ্রাফি রিপোর্ট অনুযায়ী, তার হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করছে। চিকিৎসকদের মতে, পলকের সমস্যাগুলো মূলত ডিস্ক ও মাংসপেশিজনিত। সাধারণত বিশ্রাম, ওষুধ ও ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে এ ধরনের সমস্যার চিকিৎসা করা হয়।
ঘাড়ে আঘাতের দাবি
এর আগে গত ২৪ এপ্রিল প্রিজন ভ্যানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে ঘাড়ে আঘাত পাওয়ার কথা জানান সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ জন্য তার আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখিকে চিকিৎসা চেয়ে আদালতে আবেদন করতে বলেন। এরপর ২৬ এপ্রিল তার এমআরআই করা হয়।
মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে
উল্লেখ্য, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ বর্তমানে সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। গত বুধবার থেকে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলার অন্যতম আসামি সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমানে পলাতক থাকলেও জুনাইদ আহমেদ পলক গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।



